প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার , ২৯ অক্টোবর , ২০২৫
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, সনদের সংবিধান–সম্পর্কিত সংস্কারগুলো বাস্তবায়নে একটি বিশেষ আদেশ জারি করে তার ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
গণভোটে প্রস্তাব অনুমোদিত হলে পরবর্তী সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে এবং ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার সম্পন্ন করবে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে এ সুপারিশ পেশ করেন ঐকমত্য কমিশনের সদস্যরা। পরে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশের বিস্তারিত তুলে ধরেন কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
কমিশনের খসড়া অনুযায়ী, “জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ” নামে একটি বিশেষ আদেশের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া এগোবে। এই আদেশের ভিত্তি হবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। এতে সনদের ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে সংবিধান-সম্পর্কিত ৪৮টি প্রস্তাব গণভোটের মাধ্যমে, আর বাকি প্রস্তাবগুলো অধ্যাদেশ ও নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হয়েছে।
গণভোটের সময় নির্ধারণ নিয়ে কমিশন কোনো নির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়নি। সরকারের ওপরই দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে—গণভোট জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে হবে, নাকি আগে হবে, তা সরকার ও নির্বাচন কমিশন যৌথভাবে নির্ধারণ করবে।
গণভোটে প্রশ্ন থাকবে একটিই—“আপনি কি জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং এর তফসিল–১–এ বর্ণিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করছেন?” অর্থাৎ এটি একটি প্যাকেজ গণভোট হবে। আলী রীয়াজ বলেন, “জনগণের ওপর আস্থা রাখুন। সরকার দায়িত্ব নেবে বিষয়গুলো সহজভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার।”
কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, গণভোটে প্রস্তাব পাস হলে নবনির্বাচিত সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদে রূপ নেবে। এই পরিষদ সংবিধান সংস্কারে গাঠনিক ক্ষমতা (constituent power) প্রয়োগ করবে এবং ২৭০ দিনের মধ্যে কাজ শেষ করবে। সংসদ সদস্যরা নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি পরিষদের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
সংবিধান সংস্কার সম্পন্নের পর ৪৫ দিনের মধ্যে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাবও খসড়া আদেশে রয়েছে। উচ্চকক্ষের মেয়াদ নিম্নকক্ষের সঙ্গে একই হবে।
সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর ভিন্নমত থাকলেও তা গণভোটে প্রভাব ফেলবে না। আলী রীয়াজ বলেন, “জনগণের সম্মতি পেলেই প্রস্তাবগুলো কার্যকর হবে। ভিন্নমত থাকলেও তা জনগণের রায়েই নিষ্পত্তি হবে।”
গণভোটে প্রস্তাব পাস না হলে সেটি জনগণের প্রত্যাখ্যান হিসেবে গণ্য হবে বলে উল্লেখ করা হয় সুপারিশে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ইফতেখারুজ্জামান, মো. আইয়ুব মিয়া ও সফর রাজ হোসেন।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ছয়টি সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব ও রাজনৈতিক দলগুলোর মতামতের ভিত্তিতে ৮৪ দফা জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করে। সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে আলোচনার পর দলগুলোর মতামত সমন্বয় করে কমিশন মঙ্গলবার অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে এ সুপারিশ জমা দেয়।