প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ১৩ এপ্রিল , ২০২৫
পুড়িয়ে দেওয়া ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতির বদলে নতুন করে আরেকটি মোটিফ নির্মাণ করা হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে। নতুন মোটিফ দেখতে হুবহু আগের মতো না হলেও পুনর্নিমাণে সাবেক ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখের আদলই থাকছে।
রোববার চারুকলা অনুষদে ঘুরে ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি পুনর্নিমাণের কার্যক্রম দেখা যায়। চৈত্র সংক্রান্তির দিনে রং-তুলি নিয়ে ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে শিল্পীদের।
শেখ হাসিনার চেহারার আদল দিয়ে তৈরি ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি ছিল এবারের মঙ্গল শোভাযাত্রার প্রধান আকর্ষণ। এর মধ্যে মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন করে বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
শনিবার ভোরের দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে আগুনে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রার’ জন্য তৈরি করা ‘ফ্যাসিবাদের মুখাকৃতি’ এবং ‘শান্তির পায়রা’ মোটিফ পুড়ে যায়।
এ ঘটনাকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে বর্ণনা করছে পুলিশ। অন্যদিকে মোটিফ পোড়ার পেছনে ‘ক্ষমতাচ্যুত সরকারের দোসরদের’ হাত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
তিনি ফেইসবুকে পোস্টে বলেছেন, চারুকলায় ‘ফ্যাসিবাদের মুখাবয়ব’ পুড়িয়েছে ‘হাসিনার দোসররা’।
এর মধ্যে বাংলা নববর্ষের আগের দিন রোববার সকালে চারুকলা ডিন আজহারুল ইসলাম বলছেন, হয়তো ফ্যাসিবাদের প্রতিকৃতির কাজ শেষ করা সম্ভব হবে না। তবুও চেষ্টা চলছে।
“আগুনে পুড়ে যাওয়া মোটিফ নতুন করে বানানোর কাজ শুরু করেছি। তবে একদিনের মধ্যে তো বানানো সম্ভব হবে বলে মনে হচ্ছে না। এখন দেখা যাক, কতটুকু কী করা যায়।"
মোটিফ পুড়ে যাওয়ায় শোভাযাত্রার পরিকল্পনায় কি পরিবর্তন আসবে, এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “শোভাযাত্রা আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী হবে। পুড়ে যাওয়া মোটিফ নতুন করে নির্মাণ করতে পারলে তা থাকবে।
“আর করা না গেলে হয়তো এটি ছাড়াই শোভাযাত্রা হবে। আমাদের অন্যান্য মোটিফ এবং শিল্পকর্ম তো আছেই। সেগুলো নিয়েই হবে।"
এর মধ্যে দেড় মিনিটের মধ্যে ওই দুই মোটিফ পুড়িয়ে দেওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছে। ওই ভিডিও দেখে অগ্নিসংযোগকারী হিসাবে রবিউল ইসলাম রাকিবকে চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব থাকতেন সূর্যসেন হলে। ২০২১-২২ সেশনের এ শিক্ষার্থী নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী বলে ভাষ্য ঢাবি প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদের।