জাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার , ৩১ আগস্ট , ২০২৫
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে পাঁচটি শক্তিশালী প্যানেলের মধ্যে। তবে কোনো প্যানেলই এককভাবে সব পদে জয়ী হতে পারবে না বলে মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এবারের নির্বাচনে প্যানেল বা দল নয়, বরং প্রার্থীর ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ভূমিকা ভোটে বড় ভূমিকা রাখবে।
এবারের নির্বাচনে ২৫টি পদের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৭৯ জন প্রার্থী। ভিপি পদে ১০ জন এবং জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৯ জন। ইতিমধ্যে সাতটি প্যানেল ঘোষণা হয়েছে।
এর মধ্যে ছাত্রদল–সমর্থিত প্যানেল, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ–সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’, আবদুর রশিদ জিতুর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী সম্মিলন’, বামপন্থী সংগঠনগুলোর ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ এবং ছাত্রশিবির–সমর্থিত ‘সমন্বিত শিক্ষার্থী জোট’ সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর বাইরে বাম সংগঠনগুলোর আংশিক প্যানেল ‘সংশপ্তক পর্ষদ’ ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের আংশিক প্যানেল ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ নির্বাচনে লড়ছে। এছাড়া অনেক প্রার্থী স্বতন্ত্রভাবেও প্রার্থী হয়েছেন।
বামপন্থী সংগঠন ও সাংস্কৃতিক জোটের ‘সম্প্রীতির ঐক্য’ প্যানেলে সবচেয়ে বেশি নারী ও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রার্থী রয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদলের প্যানেলে জিএস পদে নারী প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়াকে শিক্ষার্থীরা বিশেষ কৌশল হিসেবে দেখছেন। গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ–সমর্থিত ‘শিক্ষার্থী ঐক্য ফোরাম’ নারী ভোট আকর্ষণে অতিরিক্ত নারী প্রার্থী দিয়েছে। আর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক আবদুর রশিদ জিতুর নেতৃত্বে গঠিত প্যানেলটি নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা–কর্মীদের ভোট পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ শাকিল আলী জিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা এই প্যানেলকে আরও শক্তিশালী করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক তারিকুল ইসলাম বলেন, জাকসু নির্বাচন ছাত্ররাজনীতিতে সহাবস্থান ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি গড়ে তুলবে। তবে এবারের নির্বাচনে কোনো প্যানেলের একক আধিপত্যের সম্ভাবনা নেই, বরং ভোটাররা ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও কর্মকাণ্ড বিবেচনায় ভোট দেবেন।