প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: সোমবার , ২১ এপ্রিল , ২০২৫
ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে সরাসরি চেয়ারম্যান এবং মেয়র পদে নির্বাচনব্যবস্থা বাতিল করে শুধু সদস্য বা কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের সুপারিশ করেছে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন।
সেইসঙ্গে নির্বাচিত কাউন্সিলর ও সদস্যদের ভোটে তাদের মধ্য থেকে চেয়ারম্যান ও মেয়র নির্বাচিত করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সদস্য বা কাউন্সিলর পদে পূর্ণকালীন সদস্যের পাশাপাশি খণ্ডকালীন সদস্য রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সরকারি চাকরিজীবীরাও স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে খণ্ডকালীন সদস্য বা কাউন্সিলর হওয়ার সুযোগ পাবেন।
অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বাধীন স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এই সুপারিশসহ মোটাদাগে ৫১টি সুপারিশ করেছে।
রোববার (২০ এপ্রিল) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশন প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে।
সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের বিভিন্ন বিষয় সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরেন কমিশনের প্রধান ড. তোফায়েল আহমেদ।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথমে সংসদ-সদস্য নির্বাচন করা হয়। এরপর তাদের মধ্য থেকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করা হয়। একইভাবে স্থানীয় সরকারের সব স্তরেও (ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ এবং পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন) শুধু সদস্য ও কাউন্সিলর নির্বাচন হবে। একই তফসিলে এসব নির্বাচন করা যাবে। এরপর সভাপতি (সভাধ্যক্ষ) নির্বাচন করা হবে। সভাপতি জাতীয় সংসদের স্পিকারের মতো দায়িত্ব পালন করবেন। সভাপতির সভাপতিত্বে চেয়ারম্যান বা মেয়র নির্বাচন করা হবে। তারপর চেয়ারম্যান বা মেয়র তিনজন বা পাঁচজনের একটি পূর্ণকালীন কাউন্সিল করবেন। তারা পূর্ণকালীন কাজ করবেন এবং পূর্ণকালীন বেতন-ভাতা পাবেন। বাকি যারা আসবেন, তারা খণ্ডকালীন। তারা স্থায়ী কমিটির সভাপতি-সদস্য হবেন।
বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্য, উপজেলায় চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান এবং পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলররা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন। ইউনিয়ন পরিষদে সংরক্ষিত নারী সদস্য নির্বাচন করা হয়।
সংস্কার কমিশন বলছে, এ ক্ষেত্রে নয়টি ওয়ার্ডের মধ্যে তিনটি ওয়ার্ডে কেবল নারী সদস্য নির্বাচিত হবেন। ঘূর্ণায়ন পদ্ধতিতে তিনটি নির্বাচনে এটি করা হবে। এভাবে নারীর সংরক্ষিত ওয়ার্ড ব্যবস্থা আগামী তিনটি নির্বাচনের পর পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে।
কমিশন দীর্ঘ মেয়াদে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য দুই স্তরবিশিষ্ট ‘মহানগর সরকার’ (সিটি গভর্নমেন্ট) গঠনের সুপারিশ করেছে।