চবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার , ৩ আগস্ট , ২০২৫
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রীদের রাত ১০টার মধ্যে আবাসিক হলে ফেরার নির্দেশনা এবং তা অমান্য করলে সিট বাতিলের হুমকির অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচটি ছাত্রী হলসংলগ্ন এলাকায় মাইকে এই ঘোষণা প্রচার করা হয়, যা নিয়ে ছাত্রীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ ও প্রতিবাদের সঞ্চার হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি টহল গাড়িতে করে প্রক্টরিয়াল টিম সেখানে এসে উপস্থিত হয়। গাড়ি থেকেই মাইকে বলা হয়—“সব মেয়েরা ১০টার মধ্যে হলে ফিরে যাও। ১০টা ১ মিনিটে কেউ হলে না ফিরলে তার সিট বাতিল করা হবে।” একইসঙ্গে এক সহকারী প্রক্টরকে ছাত্রীর নাম-রোল লেখার মতো ভঙ্গিতে এগিয়ে যেতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় অনেক ছাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “এই ধরনের হুমকি শুধু ভয় দেখানো নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ছাত্রীদের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈষম্যমূলক মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ।”
তাদের প্রশ্ন, “রাত ১০টার পর ছেলেরা বাইরে থাকলে কোনো প্রশ্ন ওঠে না। মেয়েরা থাকলেই কেন এমন ভয় দেখানো হয়? নিরাপত্তা কি শুধু নারীর চলাফেরার ওপর নির্ভরশীল?”
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর নাজমুল হোসেন অবশ্য হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, “আমি কড়া করে কিছু বলিনি। ছাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই নিয়ম মানার কথা বলা হয়েছে। নিয়মের বিষয়ে সচেতন করতে মাইকিংও করা হয়েছে।”
তবে ছাত্রীদের অভিযোগ, এ ধরনের একতরফা নির্দেশনা ও আচরণ তাদের চলাফেরার অধিকারকে খর্ব করছে এবং প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে নিয়ে আসছে।
পুরনো বিতর্ক নতুন করে
এই প্রথম নয়—চবিতে ছাত্রীদের চলাফেরায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ নিয়ে বহুবার বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
- ২০১৮ সালে এক নোটিশে রাত ৯টার পর হলে অবস্থানকারী ছাত্রীদের হল চত্বরের বাইরে যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়।
- ২০২০ সালে করোনা পরবর্তী সময়ে আবারও একই নিষেধাজ্ঞা মৌখিকভাবে জারি করা হয়।
- ২০২২ সালে এক ছাত্রী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে হলে ফিরতে দেরি করায় তাকে গেটের বাইরে আটকে রাখা হয় প্রায় আধা ঘণ্টা, যার জেরে বিক্ষোভে উত্তাল হয় ছাত্রী হল। প্রশাসন পরে সহকারী প্রক্টরকে দায়িত্ব থেকে সরাতে বাধ্য হয়।
বর্তমান ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা বলছেন, “নিয়মের নামে বারবার শুধু নারীদের ওপরেই কেন এমন শাসন চালানো হয়? প্রশাসনের উচিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, হুমকি দিয়ে স্বাধীনতা খর্ব করা নয়।”
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেওয়া হয়নি। তবে ছাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমেই বাড়ছে বলে জানা গেছে।