জবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ১৩ জুলাই , ২০২৫
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের দুই শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীর উপর হামলাকারী ছাত্রদল নেতাকর্মীদের বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
এসময় বিভাগ বন্ধ করে হামলাকারীদের ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন তারা।
রোববার (১৩ জুলাই) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ভবনের সামনে বিক্ষোভ মিছিল শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বাঁধন আহমেদ মারুফ বলেন, বিভাগে গিয়ে ছাত্রদল কর্তৃক হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন নিরব। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতিও কোনো বিবৃত দেয়নি। শিক্ষকদের উপর হামলা ও লাঞ্ছিত করার ঘটনা হয়তো ছাত্রলীগের আমলেও হয়নি। তাহলে ৫ আগস্টের পর তারা এই সাহস কোথায় পায়? এখন এসব কথা বললে আমাকেই আবার ছাত্রলীগ ট্যাগ দিবেন? দেন। ছাত্রলীগের সময়ও শিবিরের ট্যাগ খেয়েছি।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো তুলে ধরেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইরফান হোসেন।
তিনি বলেন, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হওয়া পর্যন্ত বিভাগের সকল ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকবে।
তাদের তিন দাবি হলো- ১৩ জুলাইয়ের মধ্যেই তদন্ত কাজ সম্পন্ন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপর হামলায় সরাসরি জড়িতদের অবিলম্বে বহিষ্কার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে; সাবেক শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। ঘটনায় জড়িত সাবেকদের ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
এর আগে রোববার সকাল ১১টায় বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে ম্যানেজমেন্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
গত বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ একাডেমিক ভবনের নিচে বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রফিক বিন সাদেক রেসাদের ছাত্রলীগ সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে মারধর শুরু করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। এসময় বিভাগের শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ উপদেষ্টা এ কে এম রিফাত হাসান এবং সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম রক্ষা করতে গেলে তাদেরকে গালিগালাজ ও হামলা করে ছাত্রদলের নেতকর্মীরা। একই সাথে শাখা বাগছাস সভাপতি, মুখ্য সংগঠক ও যুগ্ম-আহ্বায়ক যথাক্রমে মো. ফয়সাল মুরাদ, ফেরদৌস হাসান এবং ফারুককে ছাত্রলীগ ট্যাগ দিয়ে তাদের উপরও হামলা ও মারধর শুরু করে তারা।