প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ৭ আগস্ট , ২০২৫
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বুধবার (৬ আগস্ট) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই আদেশ দেয়। অন্য দুই বিচারক হলেন মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ, সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান এবং পুলিশের সাবেক সদস্যসহ ছাত্রলীগের এক নেতাও। এদের মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার হয়ে ট্রাইব্যুনালে হাজির ছিলেন, বাকিরা পলাতক। মামলার সূচনা বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২৭ ও ২৮ আগস্ট তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হন। ঘটনার ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকাকালে পুলিশ একের পর এক গুলি ছোড়ে। সারা দেশে এই দৃশ্য তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে এবং আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
এদিকে, একই গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত আরেক মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ।
সাক্ষী রিনা মুর্মু জানান, তিনি নিজের চোখে আবু সাঈদকে মারধর ও গুলির ঘটনা দেখেছেন এবং এ জন্য তিনি শেখ হাসিনা, পুলিশ ও ছাত্রলীগকে দায়ী করেন। অন্য সাক্ষী সাংবাদিক মঈনুল হক বলেন, তিনি সরাসরি সম্প্রচারের সময় আবু সাঈদকে গুলিবিদ্ধ হতে দেখেছেন। আসামিপক্ষ এই সম্প্রচারের সত্যতা অস্বীকার করলেও সাক্ষীরা তা নাকচ করেন।
এছাড়া, ঢাকার রামপুরায় সংঘটিত আরেক ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচজন। এ মামলায় একটি ভবনের কার্নিশে ঝুলে থাকা এক ছাত্রকে গুলি, শিশুর মাথায় গুলি ও দাদির মৃত্যুর অভিযোগ রয়েছে।
এ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মোট ৩০টি মামলা হয়েছে, যেখানে আসামির সংখ্যা ২০৯ জন। এর মধ্যে ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।