ইবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার , ১২ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পরিবেশবাদী ও জেলার ছাত্র সংগঠনের যেকোনো কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রশাসনের আটটি শর্ত মানতে হবে। এবিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিকাল ৪টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করাসহ বেঁধে দেওয়া নানা শর্তে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানা যায়।
প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসের মধ্যে যে কোনো অনুষ্ঠান পালনের জন্য আটটি শর্ত মোতাবেক আবেদন করতে হবে। শর্তগুলো হলো- বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মধ্যে যে কোনো অনুষ্ঠানের অনুমতির জন্য ছাত্র উপদেষ্টা অথবা প্রক্টর বরাবর আবেদন করতে হবে। ১৮ জানুয়ারি প্রচারিত বিজ্ঞপ্তির আলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন শৃংখলা পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটতে পারে এমন কেউ অংশ গ্রহণ করবেনা মর্মে নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে। বিকাল ৪টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে। অনুষ্ঠান করার জন্য কমপক্ষে ৫ কর্মদিবস পুর্বে অনুমতির জন্য আবেদন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ্তাহিক ও অন্যান্য ছুটি থাকাকালীন সময়ে কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না। ক্লাস-পরীক্ষার বিঘ্ন ঘটে এমন কোনো সাউন্ড সিস্টেম বাজানো যাবে না। জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতির অনুষ্ঠানের জন্য আবেদনে স্ব-স্ব সমিতির উপদেষ্টার সুপারিশ থাকতে হবে। বিভাগের শিক্ষার্থীদের যে কোনো অনুষ্ঠানের জন্য আবেদনে স্ব-স্ব বিভাগীয় সভাপতির সুপারিশ থাকতে হবে।
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী গোলাম রব্বানী তার এক ফেইসবুক পোস্টে বলেন, সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী, সাংস্কৃতিক ও জেলার সংগঠন গুলো নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এতে আমার মনে হয় শিক্ষার্থীদের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছে। বিকেল ৪ টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করতে হবে আমার কাছে এটা খুব অপরিপক্ক সিদ্ধান্ত মনে হয়েছে একটা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে।
এ বিষয়ে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম বলেন, 'ক্যাম্পাসে মাসখানেক ধরে বিভিন্ন জেলা ছাত্রকল্যাণ সংগঠনগুলোর অনুষ্ঠান বন্ধ আছে। সংগঠনগুলো যাতে তাদের প্রোগ্রাম চালিয়ে যেতে পারে সেজন্য কাজ করা হচ্ছে। মন্দের ভালো হিসেবে আমরা প্রজ্ঞাপনে কিছু নির্দেশনা দিয়েছি।'
তিনি আরও বলেন, 'আমরা জানি আমাদের নিরাপত্তা কর্মীর ঘাটতি আছে। ইবি থানার পুলিশ নিরাপত্তার স্বার্থে পূর্বে ক্যাম্পাসে টহল দিতো কিন্তু তা এখন আর হচ্ছে না। তাই ক্যাম্পাসে ছুটির দিনগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেয়া এখনো সম্ভব হয়নি। তাছাড়া প্রক্টরিয়াল বডির সবসময় নজর রাখা সম্ভব হয়ে ওঠে না। ছুটির দিনগুলোতে অনেক সংগঠন প্রোগ্রাম করে, অনেকে এসে বক্তব্য দিয়ে যায়, পরে প্রশ্ন ওঠে কেন এমন বিতর্কিত ব্যক্তিদের অনুষ্ঠানে আনার সুযোগ দেওয়া হলো। আমরা মনে করি চারটার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করার নির্দেশে সংগঠনগুলো অন্তত সন্ধ্যার মধ্যে তা শেষ করার চেষ্টা করবে। কেননা সন্ধ্যার পর কোনো অনুষ্ঠান চললে যে সমস্যা হয় তা আমরা দেখেছি। এক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তা দেয়া কঠিন হয়ে যায়। ইবি থানা স্থানান্তর নিয়ে ইতোমধ্যেই একটা বিরূপ পরিস্থিতি যাচ্ছে। সেই জায়গা থেকে আটটা হলসহ সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হচ্ছে। আমরা নিরাপত্তা জোরদার করার চেষ্টা করছি। সম্ভব হলে প্রক্টরিয়াল বডির সাথে আলোচনা করে নির্দেশনাগুলোর সংশোধন, সংযোজন, পরিবর্ধন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে।'