বাকৃবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ৫ আগস্ট , ২০২৫
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) গত বছরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিরূপ ভূমিকা রাখাসহ গত ১৫ বছরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগে ১৫৪ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দীন বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ‘শেখ হাসিনাতেই আস্থা’ শিরোনামে একটি মিছিলে অংশগ্রহণ এবং চলমান গণ-আন্দোলনের সময় প্রতিবাদী শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সিন্ডিকেটের ৩২৮তম সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন—৫৭ জন শিক্ষক, ২৪ জন কর্মকর্তা, ২১ জন কর্মচারী এবং ৩১ জন শিক্ষার্থী। অভিযুক্তদের মধ্যে ৬ জন শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত, ১২ জনকে চাকরিচ্যুত, ৮ জনকে পদাবনতি এবং ৩১ জনকে তিরস্কার করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে ৮ জনকে বহিষ্কার, সমান সংখ্যককে অপসারণ, ৭ জনকে তিরস্কার এবং একজনকে ৫ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
এছাড়া কর্মচারীদের মধ্যে ২ জনকে বরখাস্ত এবং ১৯ জনকে মৌখিকভাবে তিরস্কার করা হয়। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৭ জনকে আজীবন বহিষ্কার এবং ২৪ জনের ডিগ্রি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর আশরাফুল হক হলে ছাত্রদল ও শিবির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে চার শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে নির্যাতনের ঘটনায়ও সংশ্লিষ্ট ১৮ শিক্ষার্থী, ২ শিক্ষক এবং ১ কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় ৩ জন শিক্ষার্থীকে আজীবন বহিষ্কার এবং ১৫ জনের সনদ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া এক শিক্ষককে পদাবনতি, আরেকজনের বেতন বৃদ্ধি স্থগিত এবং এক কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ঘোষণায় জানানো হয়, ৪ আগস্ট ‘শান্তি মিছিল’ নামে ছাত্রলীগ একটি মিছিল করে, যেখানে ‘শেখ হাসিনাতেই আস্থা’ এবং ‘এক দফার কবর দে’সহ উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। ওই দিন বহিরাগতদের নিয়ে পরিচালিত ওই মিছিলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আক্রান্ত হন এবং ক্যাম্পাসে ভয়াবহ পরিবেশ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি ও হুমকি ছড়ানো হয় বলে অভিযোগ উঠে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভুঁইয়া বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি সরেজমিন পর্যবেক্ষণ, সাক্ষ্য ও তথ্য যাচাইয়ের মাধ্যমে যেসব সুপারিশ করেছে, সেগুলো সিন্ডিকেট সভায় গৃহীত হয়েছে এবং পরবর্তী সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”