ইবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ২৭ এপ্রিল , ২০২৫
শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে শাস্তির মুখে থাকা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাফিজুল ইসলামের বিদ্যমান শাস্তি আরও বাড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
তদন্ত কমিটি অভিযোগের সত্যতা পওয়ায় ইতোমধ্যেই তার ইনক্রিমেন্ট বাতিলসহ এক বছরের বাধ্যতামূলক ছুটির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এ শাস্তিতে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা সন্তুষ্ট না হওয়ায় তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হাফিজের শাস্তি ফের পর্যালোচনা করছে প্রশাসন।
রোববার (২৭ এপ্রিল) কাউন্সিল শাখার উপ-রেজিস্টার মোল্লা শফিকুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ সিন্ডিকেট সভায় শাস্তি পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সিন্ডিকেট সদস্য ময়মনসিংহ রেঞ্জের উপ-মহা পুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আশরাফুর রহমান হাফিজের শাস্তি পর্যালোচনার কাজ করছেন।
উপ-রেজিস্ট্রার মোল্লা শফিকুল আলম বলেন, “হাফিজের বিরুদ্ধে নেওয়া পূর্বের শাস্তি বহাল আছে। তবে শাস্তি পর্যালোচনার জন্য সিন্ডিকেট সভায় ডিআইজি মহোদয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে শাস্তি পর্যালোচনা করে রিপোর্ট দিলে হয়তো সামনের সিন্ডিকেটে বিষয়টা উঠবে।”
গত বছরের ৭ অক্টোবর হাফিজুলের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে ছাত্রীদের গালিগালাজ, কথা না শুনলে মার্ক কম দেওয়া, মেয়েদের পার্সোনাল নাম্বারে কল দিযে বিরক্ত করা, ফেইক আইডি দিয়ে বিভিন্ন ছাত্রীর সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ কথোপকথন ও ছাত্রদের জোরপূর্বক সমকামীতায় বাধ্য করাসহ নানা অভিযোগ যায় কর্তৃপক্ষের কাছে। তার অপসারণের দাবিতে প্রধান ফটক অবরোধ করে বিক্ষোভ ও করেছিলেন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। পরে উপাচার্যের কাছে তারা লিখিতভাবে ২৭ দফা অভিযোগ করেন ও মৌখিকভাবে ঘটনার বর্ণনা দিলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটি ঘটনার সত্যতা পায়।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের আলোকে গত ২২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ২৬৬তম সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বার্ষিক একটি ইনক্রিমেন্ট বাতিলসহ এক বছরের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। তবে বিভাগটির শিক্ষার্থীরা হাফিজের এই শাস্তিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে।