জবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার , ২৫ মে , ২০২৫
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী এ আর ধ্রুব ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। তিনি জবির রসায়ন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের (১৬ ব্যাচ) শিক্ষার্থী। তার বাড়ি রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দিতে।
শুক্রবার (২৩ মে) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার বিষয়টি জানান।
ধর্মান্তরিত হওয়ার পর এখন তার নাম আব্দুর রহমান ধ্রুব। তিনি ঢাকা দায়রা জজ থেকে হলফনামার মাধ্যমে তার নাম পরিবর্তন করেছেন।
হলফনামাতে তিনি ঘোষণা করেছেন, “আমি জন্ম সূত্রে বাংলাদেশের স্থায়ী নাগরিক এবং আমি আইনতঃ যে কোনো হলফ করার উপযুক্ত বটে। আমি একজন প্রাপ্ত বয়স্ক। আমি আমার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ জীবনের যাবতীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে সক্ষম ও ক্ষমতাবান। আমি জাতিতে হিন্দু ধর্মাবলম্বী ছিলাম। হিন্দু ধর্মের নিয়মকানুন আমার কাছে ভালো লাগে না। আমি ইসলামি ও হিন্দু ধর্মাবলীর বই-পুস্তক পড়ে অনেক ভেবে চিন্তে দেখেছি যে, ইসলাম ধর্ম হল একটি পূর্ণাঙ্গ ইহকাল ও পরকালের ধর্ম। ইসলাম ধর্মেই পার্থিব শান্তি ও কল্যাণ রয়েছে।”
ধ্রুব নিজের দীর্ঘ আত্মঅনুসন্ধান ও মানসিক সংগ্রামের কথা শেয়ার করে জানান, তিনি ঢাকা দায়রা জজ আদালত থেকে এ বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ২৩ তারিখে ইসলাম গ্রহণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন। তার এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের সংবিধানসম্মত অধিকার বলেও তিনি জানিয়েছেন।
সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “যারা সত্য খুঁজছেন, আমি শুধু বলব—একবার কুরআন পড়ুন খোলা মন নিয়ে। সত্য চাইলে, নিশ্চয়ই আল্লাহ পথ দেখাবেন। আমি সেই পথেই শান্তি পেয়েছি।”
ধ্রুব জানান, “বহুদিন ধরে আমি মানসিক বিষণ্নতায় ভুগছিলাম এবং জীবনের নানা সংকটে পড়েছিলাম। সেই সময়গুলোতে একাধিকবার জীবনের আশা হারিয়ে ফেললেও, প্রতিবারই এক অদৃশ্য শক্তি আমাকে রক্ষা করেছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে ধর্ম ও সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করতে শুরু করি, যার উত্তর খুঁজে পাই ইসলাম ধর্মে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি একসময় বহু দেব-দেবীতে বিশ্বাস করতাম, কিন্তু গভীরভাবে শান্তি খুঁজে পাইনি। কুরআন পড়েই আমি প্রথম সেই প্রশ্নগুলোর জবাব পেয়েছি—কেন জন্মেছি, জীবনের উদ্দেশ্য কী?”
নিজের পরিবার ও পরিচিতজনদের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম করা পোস্টটিতে ধ্রুব বলেন, “আমি জানি, সবাই এই সিদ্ধান্ত সহজভাবে নেবেন না। তবে আমি চাই, আপনারা অন্তত একবার কুরআন পড়ুন—তর্কের জন্য নয়, সত্য জানার জন্য।”