প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ২ অক্টোবর , ২০২৫
জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন পদ্ধতি নির্ধারণে ৫ অক্টোবর আবারও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। কমিশনের লক্ষ্য ১০ অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সুপারিশ চূড়ান্ত করে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে সব দলের স্বাক্ষরের মাধ্যমে সনদের পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়া।
তবে সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত প্রস্তাব বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো ঐকমত্য হয়নি। বিএনপি মনে করে, এসব প্রস্তাব জাতীয় নির্বাচনের পর সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী চায়, নির্বাচন পূর্বেই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং এর ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক।
ফলে কমিশনের লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়নযোগ্য হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।
৮৪ দফা সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে তৈরি জুলাই সনদের খসড়া চূড়ান্ত হলেও বাস্তবায়ন পদ্ধতি ঠিক না হওয়ায় সনদটি ঝুলে আছে। ১১ সেপ্টেম্বর থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করে ঐকমত্য কমিশন। তিন দিন আলোচনা চললেও ঐকমত্যে পৌঁছানো যায়নি।
কমিশন সূত্র জানায়, ৫ অক্টোবরের বৈঠকে আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন প্রস্তাব চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এরপর আর কোনো আলোচনা হবে না। কমিশন একাধিক বিকল্প বাস্তবায়ন পদ্ধতি সুপারিশ করবে—যার মধ্যে রয়েছে গণভোট, সাংবিধানিক আদেশ, গণপরিষদ গঠন, কিংবা সংসদীয় প্রক্রিয়া। দলগুলোর মতভেদ না কমলে ৫ অক্টোবরের আলোচনার পর বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করে চূড়ান্ত সুপারিশ দেওয়া হবে।
ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞদের মতামত সমন্বয় করে ১০ অক্টোবরের মধ্যেই সুপারিশ চূড়ান্ত করা হবে। সমাধান রাজনীতিবিদদের কাছ থেকেই এলে সেটি কার্যকর হবে।
বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৫ অক্টোবরের বৈঠকের পরই অবস্থান পরিষ্কার হবে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মনে করে, দলীয় স্বার্থে বাধা দেওয়া হলে সনদ চূড়ান্ত হবে না; জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সরকারকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
রাজনৈতিক মতভিন্নতা কাটাতে না পারলে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে জুলাই সনদ চূড়ান্ত করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।