চবি প্রতিনিধি, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার , ২৬ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
চট্টগ্রামের সকল গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণাকর্ম ও উদ্ভাবনকে এক প্ল্যাটফর্মে উপস্থাপন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) জামাল নজরুল ইসলাম গণিত ও ভৌতবিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে ‘চট্টগ্রাম গবেষণা ও উদ্ভাবনা মেলা ২০২৫’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চবিসহ দেশের বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও উদ্ভাবকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে চবি।
২৬ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে প্রাঙ্গনে দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় এ মেলা।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বন, পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। গবেষণা মেলা উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমিন, এ এফ মুজিবুর রহমান ফাউন্ডেশন এর ট্রাস্টি জনাব এম নুরুল আলম এবং জামাল নজরুল গবেষণা কেন্দ্র পরিচালনা পরিষদের সদস্য সাদাফ সাজ সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানের “জামাল নজরুল ইসলাম স্মারক বক্তৃতা”য় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান মামুন এবং বুয়েটের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. তারিক আরাফাত। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গুগলের সেরা বিজ্ঞানী পদকপ্রাপ্ত গবেষক ও যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইয়াসির খান। বিশেষ বক্তা ছিলেন লন্ডনের ওডিয়াই গ্লোবাল এর গবেষক ড. নিকোলা জোনস।
“প্রাতিষ্ঠানিক আলোচনা: সম্ভাবনাময় গবেষণা” শীর্ষক সেশনে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক), চিটাগং ইউনিভার্সিটি অব ইঞ্জিনিয়ারিং এণ্ড টেকনোলজি (চুয়েট) চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিম্যাল সায়েন্সেস ইউনিভার্সিটি, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং চিটাগাং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর চিলড্রেন সার্জারি (ক্রিকস) এর গবেষকগণ তাদের গবেষণা কার্যক্রম উপস্থাপন করেন এবং কিভাবে আন্তঃপ্রতিষ্ঠানিক রিসোর্স এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করেন।
মঞ্চে “হাইলাইটেড রিসার্চ টক” শিরোনামে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ তাদের উদ্ভাবন ও গবেষণার গল্প উপস্থিত শিক্ষার্থী এবং গবেষকদের সামনে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির শুভেচ্ছা বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, গবেষণা যেন শুধু বিজ্ঞান নির্ভর না হয়ে সমাজ নির্ভর, বাস্তভিত্তিক এবং টেকসই পরিবেশ নিশ্চিত করতে উদ্যোগী হয়। যা মানুষের কল্যাণে কাজে লাগবে।
চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার আমাদের গবেষণায় আরো গুরুত্ব দেয়া উচিত বলে মন্তব্য করে প্রশ্ন রাখেন, বই মেলা যদি মাসব্যাপী হতে পারে, তাহলে গবেষণা মেলা কেন শুধু একদিন হবে?”
মেলায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭টি অনুষদের ৪৭টি বিভাগ, ৩৪ টি ল্যাবরেটরি এবং চট্টগ্রাম বিভাগের ১৫টি গবেষণা ইনস্টিটিউটের স্টলে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের মধ্যে কিভাবে বিদ্যমান রিসোর্স এর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা যায় সে ব্যাপারে আলোকপাত করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক),
প্রিমিয়ার ইউনিভার্সিটি, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অফ উইমেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও গবেষণা ল্যাবরেটরি এবং চিটাগাং রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর চিলড্রেন সার্জারি এতে অংশ নেয়।
গবেষণা মেলায় প্রথমবারের মতো আয়োজিত "ক্ষুদে গবেষক" পর্বে অংশগ্রহণ করে চট্টগ্রামের স্কুলসমূহ। ফ্রোবেল একাডেমি, ফুলকি এবং লিডার’স স্কুল ও কলেজের ক্ষুদে গবেষকদল তাদের গবেষণাকর্ম উপস্থাপনা করে এ মেলায়।
প্রসঙ্গত, এ বছর প্রবর্তিত "জামাল নজরুল ইসলাম গবেষণা অ্যাওয়ার্ড" পদক বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ পদকের আওতায় গত দুই বছরের গবেষণা কার্যক্রমের ভিত্তিতে সেরা গবেষক সম্মাননা, উদীয়মান গবেষক পুরস্কার, সেরা নারী গবেষক অ্যাওয়ার্ড, সেরা গবেষণা প্রকল্প, সর্বোচ্চ ইমপ্যাক্ট ফ্যাক্টর গবেষণা, সর্বোচ্চ সাইটেশন অ্যাওয়ার্ড, সেরা গবেষণা শিক্ষার্থী, সেরা বই প্রকাশনা এবং সেরা উদ্ভাবন-সহ মোট নয়টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
উল্লেখ্য, জামাল নজরুল ইসলাম গণিত ও ভৌত বিজ্ঞান গবেষণা কেন্দ্রের উদ্যোগে এটি দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতায় ছিল চিটাগাং ইউনিভার্সিটি রিসার্চ এন্ড হায়ার স্টাডি সোসাইটি (সিইউআরএইচএস)।