চবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার , ৩ সেপ্টেম্বর , ২০২৫
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্থানীয় জোবরা গ্রামবাসীর সংঘর্ষের ঘটনায় এক হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) নিরাপত্তা দপ্তরের প্রধান আবদুর রহিম বাদী হয়ে হাটহাজারী থানায় মামলাটি করেন।
এতে সুনির্দিষ্ট ৯৮ জন ও অজ্ঞাত ৮০০ থেকে ১ হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা দপ্তর থেকে লুণ্ঠিত ১৩০টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের জন্য সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত শনিবার (৩০ আগস্ট) রাতে শিক্ষার্থী সাফিয়া খাতুনের সঙ্গে এক দারোয়ানের কথাকাটাকাটি থেকে। এ সময় গ্রামবাসী শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। মীমাংসার চেষ্টা করতে গেলে উপ-উপাচার্য ও প্রক্টরদেরও আক্রমণের শিকার হতে হয়। পরে রোববার সকালে দা, রামদা, কিরিচসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর ফের হামলা চালায় গ্রামবাসী। এতে প্রায় ৪৫০ শিক্ষার্থী আহত হয়। সংঘর্ষের সময় নিরাপত্তা ভবনের তালা ভেঙে শিক্ষার্থীরা অস্ত্র লুট করে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদল ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে। তারা ভিসি ও প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত, জোবরার সন্ত্রাসীদের বিচার, ক্যাম্পাসে ই-কার বৃদ্ধি এবং বাস সেবা সম্প্রসারণের দাবি জানায়।
অন্যদিকে, মামলার খবরে জোবরা গ্রাম প্রায় পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা এলাকা পরিদর্শন করে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পরামর্শ দিয়েছেন।
এদিকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দারোয়ানের বিরোধ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তৈয়ব চৌধুরীকে আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটি সংঘর্ষের কারণ অনুসন্ধান, দোষীদের চিহ্নিতকরণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন দেবে।