নরসিংদী প্রতিনিধি প্রকাশিত: সোমবার , ১৯ মে , ২০২৫
জুলাই-বিপ্লবে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের ৯ মাস পেরিয়ে গেলেও নরসিংদীর শিবপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসের নিয়ন্ত্রণ এখনও দোসর হাতে। তাদেরকে নিয়েই জাতীয় বিভিন্ন প্রোগ্রাম করছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা (টিও) শামীম আহমেদ। এসব প্রোগ্রামে ডাক পাননি শিক্ষা কমিটির সদস্য ও বিএনপি-জামায়াতের কোনো নেতা।
জানা গেছে, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৫ উপলক্ষ্যে চলতি মাসের ১০ তারিখে শিক্ষা অফিসের আয়োজনে আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান হয়েছে। শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ইউএনও ফারজানা ইয়াসমি। অতিথিদের সাড়িতে তাদের পাশেই বসেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ও চেয়ারম্যান মৃত হারুনুর রশিদ খানের ভাতিজা একেএম মাসুদুর রহমান খান এবং ভাগনে জাহিদা আক্তার। মাসুদুর শিবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং জাহিদা চান্দেরটেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
উপজেলা সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা কমিটির সদস্য মো. কবীর হোসেন ভূইয়া বলেন, শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের সুবিধাভোগী ও দুর্নীতিগ্রস্ত কতিপয় শিক্ষক দাওয়াত পেলেও ডাক পাননি শিক্ষা কমিটির সদস্য, শিক্ষানুরাগী, বিদ্যুৎসাহি সদস্য, বিএনপি-জামায়াতের কোনো নেতা।
প্রায় একই অভিযোগ করেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মাছুম। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের দোসররাই নিয়ন্ত্রণ করছে উপজেলা শিক্ষা অফিস।
শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা কমিটির আরেক সদস্য মাজহারুল ইসলাস ভূইয়া।
শিবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক একেএম মাসুদুর রহমান খান বলেন, “সম্প্রতি জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৫ উপলক্ষ্যে একটা প্রোগ্রাম হয়েছে। যার আয়োজক উপজেলা শিক্ষা অফিস। সেখানে স্থান সংকুলান না হওয়ায় শিবপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রোগ্রামটা হয়েছে। সেখানে কাউকে দাওয়াত দেওয়া-না দেওয়ার এখতিয়ার শিক্ষা কর্মকর্তার। তাছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মৃত হারুনুর রশিদ খান আমার আপন চাচা নন।”
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম আহমেদ বলেন, “শিক্ষা সপ্তাহের অনুষ্ঠানে উপস্থিতির জন্য সব শিক্ষকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে। যারা আসছেন তাদেরকে নিয়েই প্রোগ্রাম করা হয়েছে।”