প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার , ৯ এপ্রিল , ২০২৫
কেড়ে নেওয়া জমি ফেরত দিচ্ছে সাগর। ফলে দেশের অন্যতম দ্বীপাঞ্চল সন্দ্বীপের আয়তন গত ৩৬ বছরে বেড়েছে ৪৭৫ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে জেগে ওঠা ভূমির পরিমাণ প্রায় চারশ (৩৯৮) বর্গকিলোমিটার এবং পলল ভূমি ৭৭ বর্গকিলোমিটার। অতিসম্প্রতি স্যাটেলাইট ছবির এক গবেষণায় এমনটাই দেখা গেছে।
১৯৮৯ ও ২০২৫ সালের স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার, বিশ্লেষণ এবং গবেষণা করে দেখা গেছে, ১৯৯০ সালের পর থেকে দ্বীপ এলাকা সন্দ্বীপ ও তার আশপাশে পলি জমে প্রাকৃতিকভাবেই সমতল ভূমি সৃষ্টির প্রবণতা অনেক বেশি।
‘ল্যান্ড এরিয়া এক্সপানশন ইন দ্য ইস্টার্ন পার্ট অব মেঘনা এসটুয়েরি সিন্স দ্য ১৯৯০’ বা ‘১৯৯০ সাল থেকে মেঘনা মোহনার পূর্ব অংশে ভূমি সম্প্রসারণ’ শীর্ষক গবেষণাটি করেছেন বাংলাদেশ মহাকাশ গবেষণা ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠানের (স্পারসো) সদস্য ড. মাহমুদুর রহমান।
গবেষণায় সন্দ্বীপে অল্প জোয়ারের সময় ১৯৮৯ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি এবং ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারির স্যাটেলাইট ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
গবেষণার ফলাফলে বলা হয়েছে, ১৯৮৯ সালের স্যাটেলাইট চিত্রে সন্দ্বীপের উপস্থিত ছিল, কিন্তু সেখানে জায়গায় জায়গায় জোয়ারের কাদামাটির স্তর দৃশ্যমান। এই কাদামাটির বেশির ভাগই পরে জেগে ওঠা ভূমি তৈরি করে এবং এর নামকরণ করা হয় জাহাইজ্জর চর (স্বর্ণদ্বীপ)।
১৯৮৯-২০২৫ সালের মধ্যে ভূমির আকার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৮৯ সালে উরিরচর উপস্থিত ছিল, তবে এটি ভিন্ন আকারে ছিল। ২০২৫ সালে উরিরচর আরও বড় হয়ে ওঠে এবং কমবেশি গোল আকার ধারণ করে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, জেগে ওঠা জমি ১৯৮৯ সালে ছিল ৩২৮ বর্গকিমি, যা ২০২৫ সালে ৭২৬ বর্গকিমি.তে সম্প্রসারিত হয়েছে। অন্যদিকে পলল ভূমিও প্রকৃতিতে প্রসারিত হতে থাকে। ১৯৮৯ সালে পলল ভূমির পরিমাণ ছিল ৩৩৫ বর্গকিমি, যা ২০২৫ সালে ৪১৩ বর্গকিমি.তে সম্প্রসারিত হয়েছে।
ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, জেগে ওঠা ভূমি বলতে বুঝতে হবে যা জোয়ার-ভাটার সময়ও দৃশ্যমান। আর পলল ভূমি জোয়ারের সময়ে ডুবে যায়।