প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শুক্রবার , ৭ নভেম্বর , ২০২৫
দশম গ্রেডে বেতনসহ তিন দফা দাবিতে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। শনিবার থেকে ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এ কর্মসূচি শুরু করবে চারটি শিক্ষক সংগঠনের যৌথ প্ল্যাটফর্ম ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’। নবীন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরাও এতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
শিক্ষকদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—দশম গ্রেডে বেতন প্রদান, চাকরির ১০ ও ১৬ বছরে উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার জটিলতা নিরসন এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির নিশ্চয়তা।
বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি জানান, শনিবার প্রায় ২০ হাজার শিক্ষক অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন এবং দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তিনি বলেন, “আমরা বহুবার আলোচনায় গিয়েছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি। এবার রাজপথেই দাবি আদায় করব।”
বর্তমানে দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৮৪ হাজার শিক্ষক কর্মরত। গত ২৪ এপ্রিল সরকার প্রধান শিক্ষকদের বেতন ১০ম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকদের ১২তম গ্রেডে উন্নীত করলেও এতে সহকারী শিক্ষকরা সন্তুষ্ট নন।
খায়রুন নাহার লিপি বলেন, “অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তা ও পেশাজীবীরা স্নাতক বা সমমান ডিগ্রি নিয়ে ১০ম গ্রেড পাচ্ছেন, অথচ প্রাথমিক শিক্ষকরা একই যোগ্যতা নিয়েও ১৩তম গ্রেডে রয়েছেন। তাই আমরা ন্যায্য মর্যাদা দাবি করছি।”
আন্দোলনে যুক্ত অন্যান্য সংগঠন হলো—বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি (কাশেম-শাহিন), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি এবং সহকারী শিক্ষক দশম গ্রেড বাস্তবায়ন পরিষদ। নবীন শিক্ষক নেতৃবৃন্দও এ কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন।
এদিকে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদ সরকারকে ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে দাবি পূরণে অগ্রগতি না হলে ২৩-২৪ নভেম্বর অর্ধদিবস, ২৫-২৬ নভেম্বর পূর্ণদিবস কর্মবিরতি এবং ২৭ নভেম্বর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। দাবি পূরণ না হলে ১১ ডিসেম্বর থেকে তারা আমরণ অনশন শুরু করবে।