ঢাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার , ৩১ আগস্ট , ২০২৫
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন সামনে রেখে বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদ তাদের ইশতেহার ঘোষণা করেছে। শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ইশতেহার প্রকাশ করা হয়।
প্যানেলের সহসভাপতি (ভিপি) প্রার্থী আব্দুল কাদের প্রারম্ভিক বক্তব্যে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে কেউ বানিয়েছে ক্যান্টনমেন্ট, কেউ বানিয়েছে কনসেনট্রেশন ক্যাম্প। শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় ডাকসুতে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা ক্ষমতাসীনদের চোখে চোখ রেখে কথা বলতে পারে এবং বৈষম্য ও স্বৈরতন্ত্রকে বরদাশত করবে না। এরপর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী আবু বাকের মজুমদার ও সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) প্রার্থী আশরাফা খাতুন ইশতেহারের বিভিন্ন দফা পাঠ করেন।
ইশতেহারে ক্যাম্পাসকে গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে সর্বাধিক অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, একাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ক্যাম্পাসে জাতীয় রাজনীতির মহড়া ও ক্যাডারভিত্তিক রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে শিক্ষার্থীদের জ্ঞান, দক্ষতা ও সেবাভিত্তিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
প্রশাসনিক সংস্কারের ক্ষেত্রে উপাচার্য, প্রাধ্যক্ষসহ নিয়োগে স্বচ্ছ নীতিমালা প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদখল হওয়া ৩০০ একর জমি ফেরত আনার কথাও বলা হয়েছে। ‘ওয়ান-স্টপ সলিউশন’ নামে একটি অ্যাপের মাধ্যমে ভর্তি, ফলাফল, ফি পরিশোধসহ সব সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ‘ওয়ান কার্ড অল সার্ভিস’ চালু করে পাঠাগার, স্বাস্থ্য, পরিবহন, ক্যানটিন ও আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ‘ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান সিট’ নীতির মাধ্যমে আবাসন সমস্যার সমাধানের অঙ্গীকার করা হয়েছে।
শিক্ষার্থীর মর্যাদা রক্ষায় দাড়ি-টুপি, হিজাব কিংবা আঞ্চলিক বৈষম্যের নামে নৈতিকতা পুলিশিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ভিন্নধর্মাবলম্বী ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্য বন্ধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি খাতে স্টারলিংকের মাধ্যমে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা জানানো হয়। একই সঙ্গে খণ্ডকালীন চাকরির সুযোগ, আউটসোর্সিং প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়।
সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষপূর্তিকে কেন্দ্র করে জাদুঘর ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার কথা বলা হয়। নারী শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় সাইবার বুলিং প্রতিরোধে বিশেষ সাইবার সিকিউরিটি সেল গঠনের অঙ্গীকারও করা হয়।
উল্লেখ্য, ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৯ সেপ্টেম্বর।