চবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: রবিবার , ৩১ আগস্ট , ২০২৫
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেইট সংলগ্ন এলাকায় শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীর দফায় দফায় সংঘর্ষের পর হাটহাজারী উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। রোববার (৩১ আগস্ট) দুপুর ২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে। এ সময় সভা-সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল, গণজমায়েত, পাঁচজনের বেশি একসঙ্গে চলাফেরা এবং কোনো ধরনের অস্ত্র বহনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা মুখোমুখি হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, জনগণের জীবন-সম্পদ সুরক্ষা ও শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষে অন্তত ৫৫ জন আহত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই শিক্ষার্থী।
হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান, আহতরা নিউরোসার্জারি ও ক্যাজুয়ালটি বিভাগে চিকিৎসাধীন, তবে সবাই আশঙ্কামুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রও অন্তত ৬০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত
শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রী ভাড়া বাসায় ফিরতে গিয়ে নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই প্রহরী ছাত্রীর সঙ্গে গালাগালি করে এবং তাকে চড় মারে। খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা সেখানে গেলে প্রহরীর পক্ষ নিয়ে স্থানীয়রা জড়ো হয় এবং দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ, লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। রাতভর সংঘর্ষে প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্য, নিরাপত্তাকর্মী ও বহু শিক্ষার্থী আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী মধ্যরাতে হস্তক্ষেপ করে। তবে পরদিন সকাল থেকে উত্তেজনা আবার ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ১১টার পর শিক্ষার্থীরা গেইট এলাকায় সমবেত হলে ফের গ্রামবাসীর সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) কামাল উদ্দিন ও বহু শিক্ষার্থী আহত হন।
ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, সংঘর্ষে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। ধানক্ষেতে শিক্ষার্থীদের ওপর ধারালো দা দিয়ে হামলা চালানোর ঘটনাও ধরা পড়ে ক্যামেরায়। প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, বিকাল পর্যন্ত উভয় পক্ষই লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নেয় এবং একে অপরের দিকে ইট-পাটকেল ছুড়তে থাকে।
প্রশাসনের অবস্থান
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অভিযোগ করেন, পর্যাপ্ত পুলিশ উপস্থিত না থাকায় পরিস্থিতি আরও অবনতি ঘটে। র্যাবের সাড়া না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীকে ডাকা হয়। চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাসেল জানান, এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত
রাতভর সংঘর্ষের পর রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে যোগ দেননি। দুই নম্বর গেইট এলাকার ভাড়া বাসায় থাকা শিক্ষার্থীরা ভয়ে ঘর থেকে বের হতে পারেননি।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই নম্বর গেইট ঘিরে সহিংসতার ঘটনায় পুরো এলাকা এখনো থমথমে। প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা পরিস্থিতি শান্ত করতে কতটা কার্যকর হয়, তা এখন সময়ই বলে দেবে।