রাবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার , ১০ অক্টোবর , ২০২৫
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু), হল সংসদ ও সিনেটে ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের বাকি মাত্র ছয় দিন। দুর্গাপূজার ছুটির পর ক্যাম্পাসে এখন নির্বাচনি উত্তাপ স্পষ্ট।
স্বতন্ত্র ও প্যানেলভুক্ত প্রার্থীরা ভোটার আকৃষ্ট করতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। প্রায় চার হাজার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ও দুই-তৃতীয়াংশ অনাবাসিক ভোটারকে ঘিরে এখন মূল লড়াই।
প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা এবার বড় ফ্যাক্টর হিসেবে দেখা দিচ্ছেন। তফসিল ঘোষণার সময় তারা ভোটার তালিকায় না থাকলেও ছাত্রদলের দাবিতে কমিশন পরে অন্তর্ভুক্ত করে। এ কারণে এই বর্ষের ভোট টানতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির উভয় প্যানেলেই নতুন শিক্ষার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ছাত্রদল মনোনীত ‘ঐক্যবদ্ধ নতুন প্রজন্ম’ প্যানেলের জিএস প্রার্থী নাফিউল জীবন বলেন, ‘প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকারের জন্য আমরাই লড়েছি, তারা নিশ্চয়ই তা মনে রাখবে।’ অন্যদিকে শিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’-এর জিএস প্রার্থী ফাহিম রেজা জানান, ‘অনাবাসিক ও ছাত্রী ভোটারদের যুক্ত করতে আমরা বিশেষ প্রচার চালাচ্ছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট শিক্ষার্থীর মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আবাসিক হলে থাকে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে প্রার্থীরা এখন কাজলা, ভদ্রা, বিনোদপুর, মেহেরচণ্ডী এলাকার মেস ও ছাত্রাবাসে যাচ্ছেন। অনেক প্রার্থী ক্লাস শেষে একাডেমিক ভবনের সামনে, টুকিটাকি চত্বরে ও বিশ্ববিদ্যালয় পরিবহণের বাসে প্রচার চালাচ্ছেন।
চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, এবার মোট ভোটার ২৮ হাজার ৯০১ জন, যার মধ্যে ছাত্রী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ জন—মোট ভোটের ৩৯ দশমিক ১৪ শতাংশ। নারী ভোটারদের গুরুত্বপূর্ণ মনে করে প্রার্থীরা প্রজেকশন সভা ও সরাসরি প্রচারণায় মনোযোগ দিচ্ছেন।
রাকসু ফর রেডিক্যাল চেঞ্জ-এর ভিপি প্রার্থী মেহেদী মারুফ বলেন, ‘বেশির ভাগ শিক্ষার্থী অনাবাসিক, তাই তাদের মেস ও ক্লাস ভবনের সামনে প্রচার করছি।’ সর্বজনীন শিক্ষার্থী সংসদের প্রার্থী তাসিন খান বলেন, ‘রাজনীতি নয়, শিক্ষার্থীদের চিন্তা ও অনুভবের ভিত্তিতেই তারা ভোট দিক—এটাই চাই।’