ইবি প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার , ৭ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
‘মেধা ও সততায় গড়ব সবার বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অধ্যয়নরত বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভা করেছে শাখা ছাত্রশিবির।
সংগঠনটির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ইবির বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন শাখা ছাত্র-শিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান।
ছাত্রশিবির ইবি শাখার সেক্রেটারি ইউসুব আলীর সঞ্চালনায় অফিস সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি, অর্থ সম্পাদক শেখ আল আমিন, পূজা কমিটি ইবি শাখার সাধারণ পংকজ রায়, সহ-সভাপতি সুকান্ত দাস, শিক্ষার্থী শোভন হালদার, মন্টু চাকমা, কৌষন চাকমা, প্রদীপ কুমার দাস'সহ অর্ধ শতাধিক বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী অংশ নেন।
সভায় বক্তারা একে অপরের ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার কথা জানান এবং জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান। নিজেদের সুবিধা-অসুবিধার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। শিবির নেতারা ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল শিক্ষার্থীর কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থী প্রদীপ কুমার দাস বলেন, মেধা ও সততায় আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধ ভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা বলেন, অন্যান্য হলগুলোতে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আলাদা কক্ষ বরাদ্দ থাকলেও শেখ রাসেল হলে কোনো কক্ষ বরাদ্দ নেই। বিষয়টি বিবেচনায় রাখার কথা বলেন তিনি।
হিন্দু ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা বলেন, রমজান মাসে হলগুলোতে রান্না করা হয় না। খাবারের জন্য ক্যাম্পাসের বাইরেও তা পাওয়া কষ্ট হয়ে যায়।
শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের জবাবে শাখা ছাত্র-শিবিরের সভাপতি মাহমুদুল হাসান বলেন, আপনারা আপনাদের আদর্শ প্রচার করেন, আমরা আমাদের আদর্শ প্রচার করি। ইসলাম কখনো কোনো ধর্মাবলম্বীদের জোর করে না। যার যার ধর্ম অনুযায়ী সে সে জীবন যাপন করবে। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ছুটির দিনে যেন বিভাগের কোনো প্রোগ্রাম না রাখে তার জন্য প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করবো।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সংবিধান শিক্ষার্থীদের জন্য, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের জন্য নয়। আমাদের সংবিধানের প্রতিটি অনুচ্ছেদ শিক্ষার্থীদের কল্যাণে গড়া। ছাত্র শিবিরের সভাপতির রুম শুধু মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য নয়, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য উন্মুক্ত। আপনাদের কোনো প্রয়োজন হলে অবশ্যই আসবেন। ছাত্রশিবির সব ধর্মের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে।