প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার , ২৬ জানুয়ারী , ২০২৫
আদালতে হাজির হয়ে জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে নিলেন বরখাস্ত সহকারি কর্মকর্তা তাপসী তাবাসসুম ঊর্মি। তার আবেদনে মামলার অভিযোগ গঠনের শুনানিও পিছিয়ে দিলেন বিচারক।
রোববার ঢাকার মহানগর হাকিম মো. সেফাতুল্লাহর আদালত তাবাসসুমকে জামিন দেওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ ঠিক করেন।
আওয়ামী লীগ সরকার আমলে নিয়োগ পাওয়া তাবাসসুম জুলাই আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদকে নিয়ে ফেইসবুকে করা মন্তব্যের জন্য আলোচনায় আসেন। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে ফেইসবুকে এক পোস্টের জন্য বরখাস্ত হন।
লালমনিরহাটে সহকারী কমিশনার হিসাবে কর্মরত অবস্থায় ওই লেখার জন্য গত ৬ অক্টোবর তাবাসসুমকে ওএসডি করা হয়েছিল। পরদিন তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ হয়।
এরপর ৮ অক্টোবর ঢাকার আদালতে তার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেন গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ।
তাবাসসুম ২৮ নভেম্বর হাকিম আদালতে হাজির হয়ে ৫০০ টাকা মুচলেকায় জামিন নেন। বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মামলাটি পরে বদলি করা হয় হাকিম সেফাতুল্লাহর আদালতে।
অভিযোগ গঠনের শুনানির নির্ধারিত দিন রোববার সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে আদালতে হাজির হন তাবাসসুম। সাড়ে ১১টায় আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়।
শুনানির শুরুতেই বাদী পক্ষের আইনজীবী খাদেমুল ইসলাম অভিযোগ গঠনের পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা পূর্বে শর্তে তাবাসসুমের জামিন চেয়ে শুনানি করেন। একই সঙ্গে অভিযোগ গঠনের শুনানি পেছানোর আবেদন করেন।
দুই পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত আসামির জামিন মঞ্জুর করে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের তারিখ ধার্য করেন বলে বাদী পক্ষের আইনজীবী খাদেমুল জানিয়েছেন।
নির্বাহী হাকিম তাপসী তাবাসসুম ফেইসবুকে লিখেছিলেন, “সাংবিধানিক ভিত্তিহীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, রিসেট বাটনে পুশ করা হয়েছে। অতীত মুছে গেছে। রিসেট বাটনে ক্লিক করে দেশের সব অতীত ইতিহাস মুছে ফেলেছেন তিনি। এতই সহজ! কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে আপনার, মহাশয়।”
এরপর তাকে বরখাস্তের পাশাপাশি তাবাসসুমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
তার বিরুদ্ধে মামলায় বলা হয়, “আসামি গত ৫ অক্টোবর শহীদ আবু সাঈদ নয়, সরকারের দায়িত্বশীল পদে থাকা সত্ত্বেও ছাত্র-গণআন্দোলনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত সরকার ও সরকার প্রধান নোবেলবিজয়ী প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধেও অবমাননাকর বক্তব্য ফেইসবুক লিখেন। যার মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রেফারেন্সের ভিত্তিতে সংবিধান সম্মতভাবে গঠিত একটি সরকার প্রধান সম্পর্কে বিষোদগার করা হয় এবং সরকার উৎখাতের হুমকি দিয়ে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করা হয়।”