প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শনিবার , ৫ এপ্রিল , ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল বিজ্ঞানী চালের দানার চেয়েও ছোট পেসমেকার তৈরি করেছেন। ৩.৫ মিলিমিটার দৈর্ঘ্যের পেসমেকারটি প্রস্থে প্রায় ১.৮ মিলিমিটার। পুরুত্বও খুব কম, প্রায় এক মিলিমিটার।
বিজ্ঞানীদের দাবি, জন্মগত হৃদ্রোগে আক্রান্ত শিশুদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে পেসমেকারটি। এটি আকারে ছোট হলেও বর্তমানে ব্যবহৃত পেসমেকারের মতোই কাজ করতে পারে।
যন্ত্রটি বসাতে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হবে না। আলোর ইনফ্রারেড তরঙ্গদৈর্ঘ্য ব্যবহার করে পেসমেকারটিকে নিরাপদে শরীরে প্রবেশ করানো যায়।
এ বিষয়ে বিজ্ঞানী জন এ রজার্স বলেন, ‘আমাদের জানামতে এটি বিশ্বের ক্ষুদ্রতম পেসমেকার। শিশুদের পেডিয়াট্রিক হার্ট সার্জারির সময় অস্থায়ী পেসমেকারের প্রয়োজন হয়। এ ক্ষেত্রে ছোট পেসমেকারটি সহজেই ব্যবহার করা যাবে।’
বর্তমানে আকারে বড় পেসমেকার অস্ত্রোপচার করে হৃৎপিণ্ডের পেশিতে ইলেকট্রোড সেলাই করে বসানো হয়। কিন্তু যখন যন্ত্রটির আর প্রয়োজন হয় না, তখন তা আবার খুলে ফেলা হয়। এর ফলে পেসমেকার কখনো কখনো ক্ষতির কারণ হয়ে থাকে।
তবে আকারে ছোট পেসমেকারটি প্রয়োজন শেষে শরীরের মধ্যে নিজ থেকেই দ্রবীভূত হয়ে যাবে।
প্রসঙ্গত, মানুষের হৃৎপিণ্ড স্বাভাবিকভাবে প্রতি মিনিটে ৬০ থেকে ১০০ বার স্পন্দিত হয়। কোনো কারণে এই গতি না থাকলে গুরুতর অসুস্থ, এমনকি মৃত্যুও ঘটতে পারে। যাদের স্পন্দনজনিত সমস্যা রয়েছে, তাদের হৃৎপিণ্ডের সংকোচন ও প্রসারণ স্বাভাবিক রাখতে ‘পেসমেকার’ বসানো হয়।