বুয়েট প্রতিনিধি প্রকাশিত: বুধবার , ১৯ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ ফেরির ডিজাইন করে বিশ্বজয় করল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ‘টিম ব্ল্যাক পার্ল’। তাদের আঁকা ‘নাইজা স্পিরিট’ অর্জন করল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন খেতাব।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়ার্ল্ডওয়াইড ফেরি সেফটি অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিওএফএসএ)-এর অনলাইননির্ভর ১২তম আসরের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে এ সাফল্য অর্জন করেন বুয়েটের কালো মানিকেরা। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ফল প্রকাশ করা হয়।
ডব্লিওএফএসএ প্রতিবছরই একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, যেখানে শিক্ষার্থীদের একটি নির্দিষ্ট পথে (রুট) চলাচল উপযোগী ফেরির মৌলিক নকশা করতে হয়। সঙ্গে থাকে কিছু শর্ত। যেমন-একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী, বাস-ট্রাক বা অন্য কোনো পণ্য পরিবহণ করতে হবে, ফেরিটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত হতে হবে ইত্যাদি। প্রতিযোগিতায় ২০২১ সাল থেকে নিয়মিত অংশ নিলেও এবারই প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বুয়েট শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম ব্ল্যাক পার্ল’।
দলের সদস্যরা হলেন নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের মো. সাফায়েত হোসেন (দলনেতা), মো. আবদুল কাদের, আবু রাসেল, মাহমুদুল হাসান, আফিফ বিন হাবিব, মো. আতিকুর রহমান ও মো. কাউসার মাহমুদ। তত্ত্বাবধানে ছিলেন নৌযান ও নৌযন্ত্র কৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. জোবায়ের ইবনে আওয়াল।
প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে ইন্দোনেশিয়ার শিপবিল্ডিং ইনস্টিটিউট অব পলিটেকনিক সুরাবায়া। যৌথভাবে তৃতীয় হয়েছে আইটিএস ইন্দোনেশিয়া এবং ইউনিভার্সিটি অব ইন্দোনেশিয়া।
নাইজা স্পিরিট দলনেতা মো. সাফায়েত হোসেন শিশির বললেন, ‘ইকোরোডু টার্মিনাল থেকে সিএমএসের পরিবর্তনশীল পানির গভীরতায় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য ফেরিতে ব্যবহার করা হয়েছে হাইড্রোলিক রিট্রাকটেবল এবং টিলটেবল প্রোপেলার। এ ছাড়া ফেরিতে ব্যবহার করা হয়েছে হাইড্রোকাইনেটিক টারবাইন এবং রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম যা ফেরি চলার সময় আলাদাভাবে পানি থেকে শক্তির জোগান দেবে; যা ব্যাটারির ওপর ইলেকট্রিক লোড কমিয়ে ফেলতে সক্ষম হবে। নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফেরিটিতে রয়েছে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক, ফায়ার স্প্রিংক্লার, অপ্টিমাইজেড অ্যাবাকুয়েশন সিস্টেম; সঙ্গে ডিরেকশনাল সাউন্ড বেকন সিস্টেম। ফেরিটি তৈরিতে আনুমানিক খরচ পড়বে ১.০২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।’