প্রবিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ৪ ফেব্রুয়ারি , ২০২৫
সমুদ্রতলের রহস্য উন্মোচনে কাজ করছেন ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (আইইউবি) একদল শিক্ষার্থী। তারা এমন একটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান তৈরি করছেন, যা পানির নিচে কঠিন পরিবেশে বিভিন্ন জটিল কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম। এই প্রকল্পের নাম দিয়েছেন ‘আইইউবি বঙ্গমেরিন’।
প্রকল্পটি তত্ত্বাবধান করছেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক সাদিয়া বিনতে আলম, মেহেদী হাসান ও ফয়সাল এম উদ্দিন। পরিচালকের দায়িত্বে আছেন একই বিভাগের অতিথি শিক্ষক নূর-ই সাদমান। শিক্ষার্থীদের দলে আছেন তাহফিজুল হাসান, রাহাত হাসান, মো. হানা সুলতান চৌধুরী, মুকুট প্রতিম, মো. আব্দুন ফাত্তাহ লাম, হাসিন মাহির, ফয়সল দূর্লভ, উম্মে আইমান, মেহেনাজ আলমগীর, তানফিয়া খান ও মায়মুনা রহমান।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, ইতিমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাব ল্যাবে বঙ্গমেরিনের নকশা ও প্রোটোটাইপ তৈরি করা হয়েছে। পানির নিচে কঠিন পরিবেশে বিভিন্ন জটিল কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম এই স্বয়ংক্রিয় যান। মাছের সংখ্যা পর্যবেক্ষণ ও আবাসস্থলের মানচিত্র তৈরি, সামুদ্রিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দুর্ঘটনা-পরবর্তী উদ্ধার কার্যক্রম এবং নৌ নিরাপত্তা ইত্যাদি নিয়ে কাজ করছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, বঙ্গমেরিন প্রকল্পটি ২০২৩ সালে শুরু হয়। বর্তমানে প্রকল্পের হার্ডওয়্যার অপটিমাইজেশন, সফটওয়্যার উন্নয়ন, নতুন সেন্সর ইন্টিগ্রেশন এবং গভীর পানির নিচে কাজ করার জন্য ডুবোযানটিকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল করার দিকে মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।
বঙ্গমেরিনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির মধ্যে রয়েছে—পানির নিচে গভীরতা শনাক্তের জন্য আলট্রাসনিক সোনার, যান্ত্রিক হাত, অত্যাধুনিক ক্যামেরা ইত্যাদি।
আইইউবি বঙ্গমেরিন দলের সদস্য রাহাত হাসান বলেন, ‘আমাদের এই ডুবোযানে উন্নত নেভিগেশন সিস্টেম, মেশিন লার্নিং অ্যালগরিদম এবং আধুনিক সেন্সর প্রযুক্তি সংযুক্ত রয়েছে। ফলে এটি জটিল পরিস্থিতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম।’
দলটির পরিচালক নূর-ই সাদমান বলেন, ‘ডিভাইসটি তৈরির জন্য দীর্ঘ গবেষণা, প্রোটোটাইপিং ও পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। বাণিজ্যিক বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন সম্ভব হলে এটি বাংলাদেশের মৎস্য, সামুদ্রিক পরিবেশ ও নৌ নিরাপত্তায় বড় পরিবর্তন আনতে পারবে।’