আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ২১ জানুয়ারী , ২০২৫
বিতর্ক আর সমালোচনার মধ্যে চার বছর পার করার পর চার বছর আগে হোয়াইট হাউজ থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিদায় পর্বটি ছিল অস্বাভাবিকভাবে অন্য রকম। ভোটের ফল মেনে না নিয়ে ক্যাপিটল ভবনে হামলায় সমর্থকদের প্ররোচিত করে ‘গণতন্ত্রের শত্রু’ তকমা নিয়ে তাকে ছাড়তে হয়েছিল প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব।
তখন কেউ কি ভাবতে পেরেছিল যে চার বছর পর ওয়াশিংটন ডিসির সেই পার্লামেন্ট ভবন ক্যাপিটলেই ট্রাম্পের রাজসিক প্রত্যাবর্তন ঘটবে? একবার নয়, দুই বার অভিশংসিত হওয়ার নজির তো গড়েইছিলেন, তারপর একের পর এক কেলেঙ্কারি, মামলায় আদালতের রায়ে দোষি সাব্যস্ত হয়ে ফেরার পথটি বন্ধুরই করে তুলেছিলেন ট্রাম্প।
তার মধ্যেই ভোটের প্রচারে নেমেছিলেন রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী হয়ে। প্রচার আবার ছাপিয়ে গিয়েছিল দু-দুবার মৃত্যুর ঝুঁকিতে পড়া। নভেম্বরের ভোটের আগে গত বছরের ১৩ জুলাই পেনসিলভেনিয়ায় নির্বাচনী সমাবেশে বক্তৃতা দেওয়ার সময় গুলিবর্ষণের শিকারও হতে হয় তাকে।
কান ফুটো করে গুলি বেরিয়ে যাওয়ার পর রক্তাক্ত ট্রাম্প তার সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে লিখেছিলেন- ‘ফাইট, ফাইট ফাইট’। ৭৮ বছর পেরিয়ে আসা ট্রাম্প সেই ‘ফাইট’ চালিয়ে গেছেন শেষ অবধি; তার ফল হিসাবে ভোটে জিতে এসে সোমবার আবার প্রেসিডেন্ট হিসাবে শপথ নিলেন তিনি, যা টিভির পর্দা ও অনলাইনে দেখল সারা বিশ্ব।
পার্থক্য শুধু এটুকু যে ২০১৭ সালে ক্যাপিটল ভবনের পশ্চিম প্রাঙ্গণে প্রথা অনুযায়ী খোলা লনে শপথ নিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু এবার বিরূপ আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠানটি সরিয়ে নেওয়া হয় এই কমপ্লেক্সের প্রাণকেন্দ্র ক্যাপিটল রাউটেন্ডা হলে। শীতল আবহাওয়ার কারণে সর্বশেষ ১৯৮৫ সালে রোনাল্ড রেগানের দ্বিতীয় মেয়াদের শপথ অনুষ্ঠানে এভাবে বন্ধ ঘরে করতে হয়েছিল।
এবার শপথ নেওয়ার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি বয়সী প্রেসিডেন্টের রেকর্ডটি গড়লেন ট্রাম্প। শুধু তাই নয়, একবার হারের পর পরে আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ফেরার ঘটনাও যুক্তরাষ্ট্রবাসী দেখল ঊনবিংশ শতকের পর এই প্রথমবার। শুধু তাই নয়, আগের চেয়ে বেশি শক্তিমান হয়েই প্রেসিডেন্টের চেয়ারে ফিরলেন ট্রাম্প।
মবার শপথ নিয়েই ট্রাম্প বলেছেন, আমেরিকার সোনালি যুগের সূচনা হলো। যুক্তরাষ্ট্রকে পতনের হাত থেকে রক্ষা করবেন তিনি এবং তা অতি দ্রুতই করবেন।
দুবার প্রাণে বেঁচে যাওয়ার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, স্রষ্টা তাকে দিয়ে আমেরিকাকে আবার মহান করতে চাইছেন বলেই তাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছেন।
মূল্যস্ফীতি কমিয়ে জনগণকে স্বস্বিত দেওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্য নীতি খোল নলচে বদলে দেওয়ার ঘোষণাও অভিষেক ভাষণে দেন তিনি।
এবার ইলেকটোরাল ভোটের পাশাপাশি পপুলার ভোটেও এগিয়েছিলেন ট্রাম্প। সেনেট ও প্রতিনিধি পরিষদেও এখন তার দল রিপাবলিকান পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা। বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ককে তো সরকারি পদ দিয়েছেনই, পাশাপাশি অন্য সব টেক জায়ান্টদের পাশাপাশি ধনকুবেরদের এনেছেন পাশে। সব মিলিয়ে ট্রাম্পের আশপাশে ধনীদের চাঁদের হাট বসলেও বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন আশঙ্কা করে গেছেন, এবার অলিগার্কদের হাতে যাবে যুক্তরাষ্ট্রবাসীর ভাগ্য।
‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ স্লোগান নিয়ে শীতল এক দিনে হোয়াইট হাউজে ফেরা ট্রাম্প শপথ নেওয়ার প্রথম দিনেই নির্বাহী আদেশের ফাইল সই করার ঝড় বইয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১৭ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনে ‘ওবামাকেয়ার’ বাতিলের একচিট আদেশেই কেবল সই করেছিলেন তিনি। সেখানে এবার ১০টিরও বেশি আদেশে সই করার কথা বলেই রেখেছেন।
মূল্যস্ফীিতর চাপে জেরবার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা ডেমোক্রেটদের বদলে ধনকুবের ব্যবসায়ী ট্রাম্পকে আনার ক্ষেত্রে বিশ্বের নানা প্রান্তে তার যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতিতেও মজেছিল। তার শপখ নেওয়ার ঠিক আগেই ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার মধ্যদিয়ে ট্রাম্প তাদের সেই আশার পালে হাওয়া দিলেন। তবে আরও কাজে তাকে দিতে হবে প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রমাণ।