আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ২১ জানুয়ারী , ২০২৫
প্রচণ্ড শীতের মধ্যে ট্রাম্পের অভিষেকের উষ্ণ আয়োজনটি হয় ওয়াশিংটন ডিসির পার্লামেন্ট কমপ্লেক্স ক্যাপিটলের মধ্যস্থলের রাউটেন্ডা হলে।
সোমবার দুপুর ১২টায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্টরাসহ আমন্ত্রিত অতিথিদের উপস্থিতির মধ্যে এই শপথ অনুষ্ঠান হয়।
অনুষ্ঠানে আগে শপথ নেন নতুন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স। তিনি শপথ বাক্য পাঠ করার পর নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে শপথ পড়ান যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস।
কালো কোট, মেরুন রঙের টাই পরে দুটি বাইবেলে বাম হাত রেখে শপথ বাক্য পড়েন ট্রাম্প। এই বাইবেল দুটির একটি যুক্তরাষ্ট্রের ষোড়শ প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের, আরেকটি তার নিজের।
বাইবেল দুটি দু’হাতে ধরেছিলেন তার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। কালো ওভার কোট পরা মেলানিয়ার মাথায় ছিল কালো রঙের হ্যাট।
এই শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন, জর্জ ডাব্লিও বুশ, বারাক ওবামা। ক্লিনটনের সঙ্গে তার স্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও ছিলেন অনুষ্ঠানে, ২০১৬ সালের নির্বাচনে যাকে হারিয়ে প্রথম বার প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন ট্রাম্প।
বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে বিদায়ী ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও ছিলেন অনুষ্ঠানে। ২০২০ সালের নির্বাচনে বাইডেনের কাছে হেরেই হোয়াইট হাউজ ছাড়তে হয়েছিল ট্রাম্পকে, আর গত নভেম্বরের নির্বাচনে কমলা হ্যারিসকে হারিয়েই প্রত্যাবর্তন করলেন তিনি।
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন, স্পেসএক্সর কর্ণধার ইলন মাস্ক, ফেইসবুকের কর্ণধার মার্ক জাকারবার্গ, অ্যামাজনের কর্ণধার জেফ বেজোস ছিলেন অনুষ্ঠানে।
শপথের দিন সকালেই ট্রাম্প এবং তার স্ত্রী মেলানিয়া পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে সেন্ট জন গির্জায় যান প্রার্থনা করতে। নবনির্বাচিত ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স এবং তার ভারতীয় বংশোদ্ভূত স্ত্রী উষা ভ্যান্সও ছিলেন সেখানে।
ট্রাম্প ও মেলানিয়া প্রার্থনা সেরে যান হোয়াইট হাউজে, বর্তমান প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাতে।
এরপর ট্রাম্প যান ক্যাপিটল ভবনে শপথ নিতে। শপথ নেওয়ার পরপরই তিনি অভিষেক ভাষণ দেন। তারপর কংগ্রেসের দেওয়া মধ্যাহ্ন ভোজে অংশ নেন তিনি।
ক্যাপিটল ভবন থেকে ট্রাম্প যাবেন ক্যাপিটল ওয়ান এরেনায়; এবার বদ্ধ ঘরে শপথ অনুষ্ঠান হওয়ায় সবার তা দেখার জন্য ইনডোর স্টেডিয়ামটিতে ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সেখানে ভাষণ দেওয়ার পর প্যারেড নিয়ে ট্রাম্পর যাবেন হোয়াইট হাউজে, সেখানে ওভাল অফিসে প্রথম দিনেই তিনি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের ঝড় বইয়ে দেবেন বলে আগেই জানিয়েছেন।
সেবার আর এবারে বড় ফারাক
ভোটে একবার হেরে পরের বার আবার জিতে প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন গত শতকে গ্রোভার ক্লিভল্যান্ড। ট্রাম্প ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটালেও সেই সময় আর এই সময় যে এক নয়, তা বলছেন ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসের ইতিহাসবেত্তা জেরেমি সুরি।
তিনি রয়টার্সকে বলেন, সেই সময় আর এই সময়ের বিস্তর ফারাক মৌলিকভাবেই। অর্থনীতি পুরোপুরিই অন্যরকম, সমাজ পুরোপুরি বদলে গেছে। জাতি, বর্ণ কিংবা লৈঙ্গিক বিষয়ে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গীর ক্ষেত্রে মৌলিক পরিবর্তন ঘটেছে।
“আমরা এখন এই দেশে এমন এক সময়ে আছি, যখন এসবের মানে দাঁড় করাতে আমাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। আমরা এখন অস্তিত্ব খোঁজার এক অদ্ভুত সময়ে।”
আর এই সময়েই ট্রাম্প এলেন ক্ষমতায়; যিনি অভিষেক ভাষণেই বলেছেন, লাখ লাখ বাজে ও অবৈধ অভিবাসীকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাড়াবেন তিনি। তিনি বলেছেন, তার সরকার মানুষের লিঙ্গভেদ করবে দুভাবে- নারী আর পুরুষ, অন্য কিছু নয়। ২০১৬ সালের নির্বাচনে যখন ট্রাম্প জিতেছিলেন, তখন হারলেও বেশি ভোট পেয়েছিলেন ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি। এবার একই দলের প্রার্থী কমলা হ্যারিসের চেয়ে ২০ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন ট্রাম্প। জনপ্রিয়তার সঙ্গে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে নিজ দলের সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সিদ্ধন্ত পাস করিয়ে নিতে ট্রাম্পের খুব একটা বেগ পাওয়ার কথা নয়।
দায়িত্ব নেওয়ার আগেই চীন, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। বলেছিলেন ন্যাটোর পেছনে আর অর্থ ঢালতে রাজি নন তিনি। তার ঘোষণা দেখেই ইউরোপের দেশগুলো তাদের রাজনীতি, বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটার আঁচ পাচ্ছিল।
অভিষেক ভাষণেও তেমন কথাই বলেছেন ট্রাম্প। অপ্রয়োজনে সামরিক অর্থ ব্যয় কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও ধনী করার কথা বলেছেন তিনি।
গত নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছিলেন, ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড কেনা বা দখলের ইচ্ছে তার আছে। অভিষেক ভাষণে তিনি বলেছেন পানামা খাল নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কথা।
যুক্তরাষ্ট্রকে আবার বিশ্বের নিয়ন্ত্রকের স্থানে বসানোর ইচ্ছা প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেছেন, “ভবিষ্যৎ আমাদের। আমাদের সোনালি যুগের সূচনা হলো মাত্র।”