আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ২৭ মার্চ , ২০২৫
ভারতের গুপ্তচর সংস্থা ‘রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইংয়ের (র) ওপর সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুপারিশ করেছে আমেরিকার ফেডারেল সরকারের আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতাসংক্রান্ত কমিশন (ইউএসসিআইআরএফ)।
মঙ্গলবার প্রকাশিত বার্ষিক রিপোর্টে ইউএসসিআইআরএফ ভারতে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তার দল বিজেপিরও সমালোচনা করেছে।
তবে মার্কিন কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশের পরপরই কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে নয়াদিল্লি। বলেছে, ওই রিপোর্টটি একপেশে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
‘রয়টার্স’ জানিয়েছে, শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হত্যার চেষ্টায় ‘র’-এর যোগসূত্র রয়েছে। সে কারণেই ইউএসসিআইআরএফ এ সুপারিশ করেছে।
ইউএসসিআইআরএফের মূল কাজ হলো বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় স্বাধীনতাসংক্রান্ত বিষয়ের ওপর নজর রাখা। সেই সঙ্গে আমেরিকার সরকারকে নীতিনির্ধারণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা।
খালিস্তানপন্থি নেতা মার্কিন নাগরিক গুরপতবন্ত সিংহ পন্নুনকে ২০২৩ সালে হত্যা করা হয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই দাবি করে, ভারতে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত সংগঠন ‘শিখ ফর জাস্টিস’র (এসএফজে) নেতা পন্নুনকে হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত ছিলেন ‘র’-এর সাবেক কর্তা বিকাশ যাদব।
যদিও নয়াদিল্লি তখনই জানিয়ে দিয়েছিল, ওই ঘটনার সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো যোগাযোগ নেই।
রয়টার্স জানিয়েছে বিকাশ এবং ‘র’-উভয়ের উপরেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার জন্য সুপারিশ করেছে মার্কিন কমিশন।
প্রতিবেদনের ফাইন্ডিংয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে ভারতে ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত ছিল। কারণ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হামলা এবং বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছিল।
জুনে জাতীয় নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদস্যরা রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের জন্য মুসলমানসহ অন্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করেছিলেন।
তাদের ওই বক্তব্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা উসকে দিয়েছিল।
এ হামলা নির্বাচনের পরেও অব্যাহত ছিল। এসব হামলার মধ্যে ছিল সহিংসতা, বিদ্বেষের জেরের লক্ষ্যবস্তু ও নির্বিচারে হত্যা এবং সম্পত্তি, উপাসনালয় ধ্বংস।
কর্তৃপক্ষ বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন এবং বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইনের মতো সন্ত্রাসবিরোধী এবং অর্থায়ন আইনের মাধ্যমে বিভিন্ন নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনের ওপর দমন-পীড়ন এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সদস্য, মানবাধিকার রক্ষাকারী এবং ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রতিবেদনকারী সাংবাদিকদের আটক করেছে।
‘ভারতের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য এবং অখণ্ডতার জন্য বিপদ’ বলে মনে করা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সরকার ফৌজদারি আইনে নতুন ধারা সংযোজন করে তাদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে।
এছাড়া দিল্লি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সংস্থা মসজিদ ভেঙে সেই স্থানে হিন্দু মন্দির নির্মাণসহ উপাসনালয় দখল এবং ধ্বংস করার কাজে সহায়তা করেছে।