আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শনিবার , ১৪ জুন , ২০২৫
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা এবং কমান্ডারদের অবস্থান লক্ষ্য করে ইসরায়েলের নজিরবিহীন হামলার পর প্রতিশোধের ঘোষণা দিয়েছে তেহরান।
আর এর মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের দুয়ারে পৌঁছে গেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা।
চির বৈরী এ দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় দেশ দুটির সামরিক শক্তির বিষয়গুলোও আলোচনায় আসছে। সক্ষমতার দিক থেকে তুলনা করলে দেখা যায় দুই দেশই সামরিক দিক থেকে বেশ শক্তিশালী।
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী ইরান সামরিক সক্ষমতার দিক থেকে ইসরায়েলের তুলনায় তিন ধাপ এগিয়ে আছে। তবে বিশ্বের সামরিক শক্তিধর দেশের শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় আছে দুই দেশই।
সামরিক সক্ষমতায় শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় ইরানের অবস্থান চতুর্দশ, আর ইসরায়েলের অবস্থান সপ্তদশ।
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ার এর পরিসংখ্যান ধরে দুই দেশের সামরিক শক্তির তুলনামূলক বিশ্লেষণ এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে বিবিসি।
সামরিক ব্যয়
ইরান ও ইসরায়েল দুই দেশই প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে। তবে বার্ষিক সামরিক বাজেটে ইরানের তুলনায় ইসরায়েলের ব্যয় দ্বিগুণেরও বেশি।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাজেট ২৪৪০ কোটি ডলারের। আর ইরানের বাজেট ৯৯৫ কোটি ডলারের।
সামরিক ব্যয়ের দিক দিয়ে বিশ্বের ১৪৫ দেশের মধ্যে ইরানের অবস্থান ৩৩তম। আর ইসরায়েল আছে ১৯তম অবস্থানে।
কার কত সৈন্য
গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, সৈন্য সংখ্যার বিচারে ইসরায়েলের চেয়ে এগিয়ে আছে ইরান।
ইরানের যেখানে ১১ লাখ ৮০ হাজার নিয়মিত সেনা আছে, সেখানে ইসরায়েলের সৈন্য সংখ্যা ৬ লাখ ৭০ হাজার।
ইরানের রিজার্ভ সৈন্য সংখ্যা সাড়ে তিন লাখের মত। আর ইসরায়েলের ৪ লাখ ৬৫ হাজার রিজার্ভ সেনা আছে।
আকাশ যুদ্ধের ডানা
ইরানের হাতে আছে মোট ৫৫১টি সামরিক বিমান। আর ইসরায়েল ৬১২টি সামরিক বিমানের মালিক।
এর মধ্যে ইরানের যুদ্ধ বিমান আছে ১৮৬টি আর ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান আছে ২৪১টি।
ইরানের জঙ্গি বিমানের সংখ্যা ২৩টি, ইসরায়েলের হাতে আছে ৩৯টি।
ইরানের ৮৬টি পরিবহণ বিমান আছে, ইসরায়েলের আছে ১২টি।
ইরানের হাতে ১২৯টি এবং ইসরায়েলের ১৪৬টি হেলিকপ্টার আছে।
ইরানের অ্যাটক হেলিকপ্টারের সংখ্যা যেখানে ১৩টি, ইসরায়েলের হাতে আছে ৪৮টি।
ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান
ট্যাংক ও সাঁজোয়া যানের দিক দিয়ে এগিয়ে আছে ইরান। ইসরায়েলের যেখানে ১৩৭০টি ট্যাংক আছে, ইরানের আছে ১৯৯৬টি।
ইরানের হাতে ৬৫ হাজার ৭৬৫টি সাঁজোয়া যান আছে, আর ইসরায়েলের আছে ৪৩ হাজার ৪০৩টি।
আর্টিলারি সক্ষমতায়ও ইরান এগিয়ে। দেশটির হাতে ৭৭৫টি রকেট আর্টিলারি (এমএলআরএস) এবং ৫৮০টি সেলফ প্রপেলড আর্টিলারি রয়েছে ।
অন্যদিকে ইসরায়েলের হাতে থাকা রকেট আর্টিলারির সংখ্যা ১৫০টি; তাদের সেফল প্রপেলড আর্টিলারির সংখ্যা ৬৫০টি।
নৌ শক্তি
নৌ শক্তির দিক দিয়েও এগিয়ে আছে ইরান। দেশটির ১০১টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে, এর মধ্যে সাতটি ফ্রিগেট এবং ২১টি টহল জাহাজ।
অন্যদিকে ইসরায়েলের বহরে ৬৭টি যুদ্ধজাহাজ রয়েছে। এর মধ্যে ৪৫টি টহল জাহাজ, ইসরায়েলের কোনো ফ্রিগেট নেই।
ইরানের ১৯টি সাবমেরিন আছে, যেখানে ইসরায়েলের সাবমেরিন সংখ্যা ৫টি।
পারমাণবিক শক্তি
বিশ্বের নয়টি দেশের কাছে প্রায় ১২ হাজার ৫১২টি পারমাণবিক অস্ত্র আছে। যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরায়েলের হাতে আছে এসব অস্ত্র।
এই তালিকায় ইরানের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার তথ্য নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক বছর ধরে দাবি করে আসছে, ইরান তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদ দিয়ে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে। অন্যদিকে ইরানের দাবি, তাদের পরমাণু কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।