আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার , ৩০ জানুয়ারী , ২০২৫
আমেরিকান এয়ারলাইন্সের একটি আঞ্চলিক যাত্রীবাহী বিমান ও মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের মধ্যে মাঝআকাশে সংঘর্ষে ৬০ জনের বেশি নিহত হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ডোনাল্ড রিগ্যান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কাছে সংঘঠিত এ দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩০টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে জীবিত কাউকেই পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করে বলেছে, এখন পর্যন্ত ৩০টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে— এর মধ্যে ২৮ জন বিমানের যাত্রী এবং দুজন হেলিকপ্টারের ক্রু সদস্য।
“দুর্ঘটনায় সম্ভাব্য ৬০ জনেরও বেশি মানুষকে একসঙ্গে হারানো সত্যিই খুব কঠিন। যখন একজনের মৃত্যু হয় তখন তা কষ্টদায়ক, কিন্তু যখন অনেক অনেক মানুষ মারা যায়, তখন সেই দুঃখ রেওয়া যায় না। এটা অনেক বেশি হৃদয়বিদারক,” বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীর রিগান বিমানবন্দরে এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই বলেন কানসাসের সেনেটর রজার মার্শাল।
দুর্ঘটনায় পড়া উড়োজাহাজটি কানসাস থেকে রওনা হয়েছিল। আর সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ হেলিকপ্টারটি বহন করছিল তিন সেনা সদস্যকে, বলেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
যাত্রীবাহী বিমানটিতে একাধিক আইস স্কেটার, তাদের পরিবারের সদস্য ও কোচরা উইচিটোর এক ক্যাম্প থেকে ফিরছিলেন, তাদের মধ্যে রাশিয়ায় জন্ম নেওয়া সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইয়েভগেনিয়া শিশকোভা ও ভাদিম নৌমভও ছিলেন।
এক পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ডুবুরি দল উড়োজাহাজের দুটি ডেটা রেকর্ডারের একটি উদ্ধার করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) বলছে, বুধবার স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ৫৪৩২ ফ্লাইটটি রোনাল্ড রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টে নামার পথে মাঝ আকাশেই যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়।
নামে আমেরিকান এয়ারলাইন্সের হলেও, ফ্লাইটটি পরিচালনা করছিল পিএসএ এয়ারলাইন্স। ইতোমধ্যেই পেন্টাগন এই দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে দুর্ঘটনায় জড়ানো ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের বেতার বার্তা থেকে জানা গেছে, হেলিকপ্টারটির পথে যে যাত্রীবাহী বিমানটি ছিল, তা হেলিকপ্টারের ক্রুরা জানতেন।
পরে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পও হেলিকপ্টার ক্রু এবং এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলারদের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি লিখেছেন, “দেখে মনে হচ্ছে, এটা ঠেকানো যেত। ভালো হলো না।”
এদিকে, বিমানবন্দরে জড়ো হওয়া যাত্রীবাহী বিমানটিতে থাকা আরোহীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, তারা আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাচ্ছেন না।
রয়টার্স স্থানীয় সময় রাত তিনটার দিকে বিমানবন্দরের বাইরে ফুটপাতে দাঁড়িয়ে একজনকে কাঁদতে দেখেছে।
ওয়াশিংটন ডিসির দমকল বাহিনীর প্রধান জন ডোনেলি জানিয়েছেন, অন্তত ৩০০ উদ্ধারকর্মী উদ্ধার অভিযানে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।
কেউ বেঁচে আছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা এখনো জানি না।”