আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ৮ এপ্রিল , ২০২৫
দেড় বছর অবিরত হামলার পর চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় গাজায় যুদ্ধবিরতি। কিন্তু বিধ্বস্ত উপত্যকাটিতে প্রাণ ফিরতে না ফিরতেই যুদ্ধবিরতির প্রতিশ্রুতি ভেঙে পুনরায় যুদ্ধ শুরু করে বর্বর ইসরাইলি বাহিনী।
তারা শুধু হামলাই বাড়ায়নি, বরং গাজা উপত্যকায় নাটকীয়ভাবে তাদের অবস্থানও প্রসারিত করেছে। এরই মধ্যে উপত্যকাটির ৫০ শতাংশেরও বেশি অঞ্চল দখলে নিয়েছে ইসরাইল। সোমবার এ খবর জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি।
ইসরাইলি সেনা এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা সবচেয়ে বড় সংলগ্ন এলাকা হলো গাজা সীমান্তের আশপাশ। যেখানে সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর, কৃষিজমি এবং অবকাঠামো ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে অঞ্চলটি বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইসরাইলের সামরিক বাফার জোনের আকার দ্বিগুণ হয়েছে। জানুয়ারিতে যখন যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয় তখনো অনেকেই উত্তর গাজার বেইত হানুনে তার বাড়িতে ফিরে যান। আবারও ইসরাইল হামলা শুরু করলে সেসব ঘরবাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। আর সেখানে ইসরাইল বাফার জোন তৈরি করে। ইসরাইলি সেনারা নেতজারিম করিডর নামে পরিচিত জমিও দখল করেছে। যা গাজা শহরসহ উত্তরাঞ্চলকে বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন করেছে। যেখানে ২০ লাখেরও বেশি লোকের আবাসস্থল রয়েছে।
পাঁচজন ইসরাইলি সেনা এপিকে জানিয়েছেন, ১৮ মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি সীমান্তের কাছে ধ্বংস এবং বাফার জোনের পদ্ধতিগত সম্প্রসারণ চলছে।
এরই মধ্যে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ইসরাইল আরেকটি করিডর তৈরি করতে চায়। যা দক্ষিণ গাজার মধ্য দিয়ে রাফাহ শহরকে বাকি অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলবে।
গাজায় পুনরায় আক্রমণ শুরু করার পর থেকে এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গাজায় ইসরাইলের হামলায় ৫০ হাজার ৬৯৫ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। যাদের মধ্যে বেশির ভাগ নারী ও শিশু।