আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার , ১৫ জুলাই , ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ নীতিগত পরিবর্তন এনে ইউক্রেনকে আরও অস্ত্র সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে রাশিয়াকে ৫০ দিনের মধ্যে শান্তিচুক্তি না করলে শতভাগ শুল্কসহ কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
সোমবার (১৪ জুলাই) হোয়াইট হাউসে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে যৌথ ব্রিফিংয়ে ট্রাম্প বলেন, “আমরা অত্যাধুনিক অস্ত্র তৈরি করবো এবং তা ইউক্রেনের জন্য পাঠানো হবে। ন্যাটো মিত্ররা এর খরচ বহন করবে।”
ইউক্রেনের চাহিদার শীর্ষে থাকা প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম দ্রুত পাঠানো হবে বলে ট্রাম্প জানান।
রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৫০ দিনের মধ্যে শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর না করলে রাশিয়ার পণ্যে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে উল্লেখ্য করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা সেকেন্ডারি ট্যারিফ আরোপ করবো, এবং তা হবে ১০০ শতাংশ।”
এই সেকেন্ডারি শুল্ক শুধু রাশিয়ার পণ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং যেসব দেশ রাশিয়ার জ্বালানি বা অন্যান্য পণ্য কিনবে, তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথ খুলে দেবে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র কংগ্রেসে একটি বিল নিয়ে আসছে, যেখানে রাশিয়াকে সহায়তাকারী দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্পকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সর্বশেষ ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, “পুতিনের সঙ্গে আমার কথোপকথন সবসময় ভালো, কিন্তু তার পরদিনই দেখি শহরগুলোতে বোমা বর্ষণ হচ্ছে। এটা আর চলতে পারে না।”
তিনি স্পষ্টভাবে জানান, তিনি আর কথায় বিশ্বাস করেন না—এখন প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ।
ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণায় ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সমর্থন পুনঃস্থাপিত হয়েছে এবং রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগের কৌশল আরও জোরালোভাবে প্রকাশ পেয়েছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা ট্রাম্পের সমর্থন ও যুদ্ধ থামিয়ে ন্যায্য শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকারকে সাধুবাদ জানাই।”
জেলেনস্কি আরও জানান, ট্রাম্পের বিশেষ দূত কিথ কেলোগের সঙ্গে তিনি কিয়েভে সাক্ষাৎ করেছেন। সেখানে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা শক্তিশালী করা, যৌথ অস্ত্র উৎপাদন ও যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপীয় অংশীদারিত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
যদিও রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে মস্কোর অভ্যন্তরে অনেকেই ট্রাম্পের ঘোষণায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, “রুশ জনগণের একাংশ ট্রাম্পকে সম্ভাব্য শান্তির বাহক হিসেবে দেখছিলেন, কিন্তু এখন তাদের আশা ভঙ্গ হয়েছে।”
অন্যদিকে, ন্যাটো মহাসচিব রুটে বলেন, “ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে যুদ্ধের টেবিল থেকে শান্তির টেবিলে আসতে বাধ্য করবে।” তিনি আরও বলেন, “এখন সময় খুব গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত অস্ত্র পাঠানো দরকার।”
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ ম্যার্জ ট্রাম্পের ঘোষণাকে ‘গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি জানান, “জার্মানি এই উদ্যোগে নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত। এটি আমাদের স্বার্থের সাথেও সম্পর্কিত।”
ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কাল্লাস বলেন, “ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত একটি ইতিবাচক বার্তা, তবে ৫০ দিন একটি দীর্ঘ সময়—এই সময়ের মধ্যে অসংখ্য নিরীহ মানুষ প্রাণ হারাতে পারে।”
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এই অবস্থান পরিবর্তন ইউক্রেন যুদ্ধের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। একদিকে ইউক্রেনের সামরিক শক্তি বাড়বে, অন্যদিকে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ আরও বাড়বে।