প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শুক্রবার , ১১ এপ্রিল , ২০২৫
আসন্ন নারী বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচে থাইল্যান্ডকে ১৭৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
কেবল জয় নয়; বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ৭৮ বলে শতক হাঁকিয়েছেন তিনি, নিজস্ব সংগ্রহ ৮০ বলে ১০১ রান।
তবে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও ৯৪ রানে অপরাজিত থেকে গেছেন শারমিন আক্তার। এই দুজনের ব্যাটে ৫০ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭১ রান করেছে বাংলাদেশ।
নিজেদের যাচাই করতে বৃহস্পতিবার লাহোর সিটি ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাঠে বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মেয়েরা। টসে জিতে প্রথমেই বল করার সিদ্ধান্ত নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাটিং করতে পাঠায় থাইল্যান্ড।
বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ১০টায় শুুরু হওয়া ম্যাচে নিগার-শারমিনদের কীর্তী ২৭১ রানের বিশাল লক্ষ্য ঠিক করে।
বাংলাদেশের ছুঁড়ে দেওয়া ২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে থাইল্যান্ড। নিয়মিত বিরতিতে হারাতে থাকে উইকেট। দুই প্রান্ত থেকে দুই স্পিনার ফাহিমা খাতুন ও জান্নাতুল ফেরদৌসের বোলিংয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে থাই মেয়েরা।
৮.৫ ওভারে ১ মেডেনসহ ২১ রানে ৫ উইকেট নেন ফাহিমা। জান্নাত ছিলেন আরও বিধ্বংসী। ৫ ওভারে ৩ মেডেনে মাত্র ৭ রানে ৫ শিকার করেন তিনি। দুজনকে সামনে থাইল্যান্ডের মাত্র তিনজন ব্যাটার পার করেছেন দুই অঙ্কের রানের ঘর।
এর আগে ব্যাট হাতে দলীয় ১৫ রানে বাংলাদেশের প্রথম উইকেটের পতন ঘটেছিল। ৮ রান করে ফিরে যান ওপেনার ইশমা তানজিম। আরেক ওপেনার ফারজানা হক অবশ্য পেয়েছেন ফিফটির দেখা। ধীরগতির হলেও ৮২ বলে ৫৩ রানের ইনিংস গড়ে দিয়েছে দলের ভিত।
দ্বিতীয় উইকেটে শারমিন আক্তার সুপ্তিকে সঙ্গে নিয়ে ১০৪ রানের জুটি গড়েন ফারজানা। ফারজানা বিদায় নিলেও শারমিন অবিচল ছিলেন শেষ পর্যন্ত। ১১ চারে ১২৬ বলে ৯৪ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তবে, বাংলাদেশের রান ২৭১ পর্যন্ত নিতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছেন জ্যোতি।
শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ছড়ি ঘোরান থাই বোলারদের ওপর। ৮০ বলে ১৫ চার ও ১ ছক্কায় ১০১ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দেন জ্যোতি। ৭৮ বলে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি, এই ফরম্যাটে যা বাংলাদেশের দ্রুততম। তৃতীয় উইকেটে শারমিনের সঙ্গে ১৫২ রানের অসাধারণ জুটি গড়েন জ্যোতি। ওয়ানডেতে যে কোনো উইকেটে এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জুটি।
থাইল্যান্ড ছাড়াও বাংলাদেশ খেলবে বাকি চার প্রতিপক্ষের সঙ্গেই। পরের প্রতিপক্ষগুলো যথাক্রমে—আয়ারল্যান্ড (১৩ এপ্রিল), স্কটল্যান্ড (১৫ এপ্রিল), ওয়েস্ট ইন্ডিজ (১৭ এপ্রিল) ও পাকিস্তান (১৯ এপ্রিল)।