প্রতিবেদক, প্রকাশিত: শনিবার , ৪ জানুয়ারী , ২০২৫
ছবি: অঞ্জনা রহমান
মিরর প্রতিবেদক: তিন সপ্তাহ জ্বরে ভুগে মাত্র ৬০ বছর বয়সে পৃথিবীর রঙ্গমঞ্চ ত্যাগ করলেন সত্তর ও আশির দশকের তুমুল জনপ্রিয় নায়িকা অঞ্জনা রহমান।
জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত এই অভিনেত্রী শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি ২ মেয়ে ও ১ ছেলে রেখে গেছেন।
তিন সপ্তাহ ধরে অসুস্থ ছিলেন; শুরুতে হাল্কা জ্বর কয়েকদিন পর সারা শরীর কেঁপে তীব্র জ্বর। একটা সময় ওষুধ খেয়েও কাজ হচ্ছিল না। রক্ত পরীক্ষায় সংক্রমণ ধরা পড়ল।
এরপর অঞ্জনাকে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কদিন তাকে রাখা হয় সিসিইউতে।
সেখানকার চিকিৎসায় শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত বুধবার তাকে নেওয়া হয় বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় ওই রাতেই তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত চলেই গেলেন তিনি।
শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর শনিবার দুপুরে এফডিসিতে অঞ্জনার জানাজা হবে।
বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের একসময়ের জনপ্রিয় অভিনয়শিল্পী অঞ্জনা নৃত্যশিল্পী থেকে নায়িকা হয়ে সর্বাধিক যৌথ প্রযোজনা এবং বিদেশি সিনেমায় অভিনয় করেছেন।
১৯৭৬ সালে বাবুল চৌধুরী পরিচালিত ‘সেতু’ চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয়ের মাধ্যমে রূপালি জগতে প্রবেশ করেন অঞ্জনা। তবে তার অভিনীত ও একই বছর মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ‘দস্যু বনহুর’। ছবিতে তার নায়ক ছিলেন সোহেল রানা। ১৯৭৬ সালের এই সিনেমার পর টানা কাজ করেছেন অঞ্জনা। একে একে অভিনয় করেন ‘মাটির মায়া’, ‘অশিক্ষিত’, ‘চোখের মণি’, ‘সুখের সংসার’, ‘জিঞ্জির’, ‘অংশীদার’ ,‘আনারকলি’, ‘বিচারপতি’, ‘আলাদীন আলীবাবা সিন্দাবাদ’, ‘অভিযান’, ‘মহান’ ও ‘রাজার রাজা’, ‘বিস্ফোরণ’, ‘ফুলেশ্বরী’, ‘রাম রহিম জন’, ‘নাগিনা’, ‘পরীণিতা’ ইত্যাদি বানিজ্যিক সফল সিনেমায়।
বাংলাদেশ ছাড়াও তিনি অভিনয় করেছেন ৯টি দেশের ১৩টি ভাষার সিনেমায়।
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, আন্তর্জাতিক পুরস্কার, একাধিক জাতীয় স্বর্ণপদক, বাচসাস পুরস্কার পেয়েছেন কয়েকবার।