প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬
ফারসি ভাষায় বাংলাদেশের প্রকৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরে প্রকাশিত লিটল ম্যাগাজিন ‘রোজনামচা’র দ্বিতীয় সংখ্যার মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে ম্যাগাজিনটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
বাংলাদেশের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থীদের লেখায় সাজানো এবারের সংখ্যায় দেশের পর্যটন, ঐতিহাসিক স্থাপনা, শিক্ষা, জীবনযাপন ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের নানা দিক ফারসি ভাষার পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
‘রোজনামচা’র এবারের সংখ্যার বড় অংশজুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের পর্যটন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। সুন্দরবন, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটা, সাজেক, বান্দরবান, সাদা পাথর, হরিণঘাটা, ভোলা, বাঁশখালী ও নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন এলাকার প্রকৃতি ও পর্যটন সম্ভাবনা উঠে এসেছে এতে।
একই সঙ্গে লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, সোনারগাঁও, তাজহাট জমিদারবাড়ি, বালিয়াটি, রবীন্দ্র কুঠিবাড়ি, কাছারি বাড়ি ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজের মতো ঐতিহাসিক স্থাপনাও ফারসি ভাষায় পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের শিক্ষা ও জ্ঞানচর্চার চিত্রও রয়েছে ম্যাগাজিনটিতে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে দুটি পৃথক লেখায় এর শিক্ষা, সংস্কৃতি, জাতীয় পরিচয় ও জ্ঞানচর্চার ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সৌন্দর্য নিয়েও রয়েছে একটি লেখা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার বৈচিত্র্যও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। রাজশাহীর সৌন্দর্য, শাহ মখদুমের মাজার ও আমের রাজধানী হিসেবে রাজশাহীর পরিচয়ের পাশাপাশি দিনাজপুর, নরসিংদী, গাইবান্ধা, টাঙ্গাইল, নেত্রকোনা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও রাঙামাটির ইতিহাস, প্রকৃতি ও সংস্কৃতি নিয়ে লেখা প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশের নদী, নৌবিহার, রিকশা, বাংলা নববর্ষ, দৈনন্দিন জীবন, ফলমূল ও ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়েও রয়েছে নানা আয়োজন। কুমিল্লার রসমালাই ও নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টির মতো স্থানীয় খাবারও স্থান পেয়েছে সংখ্যাটিতে।
ইরানিদের চোখে বাংলাদেশ
‘রোজনামচা’র দ্বিতীয় অংশে রয়েছে ‘ইরানি নাগরিকদের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ’ শীর্ষক বিশেষ আয়োজন। এতে ইরানি লেখক ও শিক্ষাবিদদের চোখে বাংলাদেশের প্রকৃতি, মানুষ, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের সবুজ প্রকৃতি, মানুষের আতিথেয়তা, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য এবং দেশে ফারসি ভাষার চর্চা নিয়ে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও অনুভূতিও প্রকাশ পেয়েছে এ অংশে।
ফলে ‘রোজনামচা’র দ্বিতীয় সংখ্যা শুধু ফারসি ভাষার শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজের সংকলন নয়; বরং ফারসি ভাষায় বাংলাদেশের একটি সংক্ষিপ্ত ভ্রমণচিত্র ও সাংস্কৃতিক পরিচয়পত্র হয়ে উঠেছে। দেশের সৌন্দর্য ও বৈচিত্র্যকে অন্য ভাষার পাঠকের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি এটি শিক্ষার্থীদের ভাষাচর্চা ও সৃজনশীলতারও একটি অনন্য প্রকাশ।