প্রতিবেদক। ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬
তিনি বলেন, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এখন শুধু একটি বিষয় নয়; শিক্ষা, কর্মসংস্থান, গবেষণা, উদ্ভাবন ও দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রের সঙ্গে এটি যুক্ত। তাই শিক্ষার্থীদের এমন শিক্ষা দিতে হবে, যা শ্রেণিকক্ষের বাইরে বাস্তব জীবনেও কাজে লাগে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সাভারের ব্র্যাক সিডিএমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্সের ‘রিসোর্স ম্যাটেরিয়ালস ফাইনালাইজেশন’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিসেফ বাংলাদেশের কারিগরি সহযোগিতায় কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বৈচিত্র্য, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে রিসোর্স ম্যাটেরিয়াল তৈরি করতে হবে। এর ভাষা হতে হবে সহজ, সাবলীল ও শিক্ষার্থীবান্ধব, যাতে তুলনামূলক দুর্বল শিক্ষার্থীরাও সহজে বিষয়বস্তু বুঝতে পারে।
তিনি বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় দেশের উচ্চশিক্ষার বৃহত্তম অংশকে ধারণ করে এবং এর অধিভুক্ত কলেজগুলো দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর কাছে একই মানের সময়োপযোগী শিক্ষাসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় দায়িত্ব।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে ড. আমানুল্লাহ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, ডেটা ম্যানেজমেন্ট, সাইবার সিকিউরিটি ও ডিজিটাল কমিউনিকেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে। তাই অ্যাপ্লাইড আইসিটি কোর্সে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তির চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল মার্কেটিং ও গিগ ইকোনমির মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কর্মসংস্থান, ফ্রিল্যান্সিং ও আয়মুখী কাজের সঙ্গে যুক্ত করা। শিক্ষার্থীরা যেন প্রযুক্তির শুধু ব্যবহারকারী না হয়ে নিজেদের দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশীয় ও বৈশ্বিক কর্মবাজারে সুযোগ তৈরি করতে পারে, সে লক্ষ্যেই কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে।
কর্মশালার প্রথম দিনে রিসোর্স বুকের বিভিন্ন অধ্যায় ও টপিকের বিষয়বস্তুর যথার্থতা, শিক্ষার্থীবান্ধবতা, প্যাডাগজিক্যাল পদ্ধতি, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং অনলাইন কনটেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরবর্তী দুই দিনে বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে রিসোর্স বুক ও অনলাইন কনটেন্টের চূড়ান্ত রূপ দেওয়ার কথা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, ইউনিসেফের প্রতিনিধিসহ বিষয় ও প্যাডাগজি বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।