প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে খেলাধুলার প্রসার, প্রতিভাবান ফুটবলার খুঁজে বের করা এবং তরুণদের মাদক, সন্ত্রাস ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে ‘প্রাইম মিনিস্টার্স গোল্ডকাপ জাতীয় ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬’-এর নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ নীতিমালা জারি করা হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নির্দেশনা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তত্ত্বাবধানে উপজেলা বা থানা, জেলা, শিক্ষা অঞ্চল এবং জাতীয়—এই চার স্তরে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে। মাধ্যমিক ও সমমান এবং উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পর্যায়ে ছেলে ও মেয়েদের জন্য পৃথক চারটি বিভাগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
এ প্রতিযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নিবন্ধিত সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়মিত শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবে। মাধ্যমিক পর্যায়ের খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ বয়স ১৭ বছর এবং উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে ১৯ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রতিটি দলে ১৬ জন খেলোয়াড় এবং একজন ম্যানেজার ও একজন কোচসহ মোট ১৮ সদস্য থাকবে। বালিকা দলের সঙ্গে একজন নারী শিক্ষক রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, জাতীয় পর্যায়ে মোট ৩২টি দল অংশ নেবে। এর মধ্যে মাধ্যমিক পর্যায়ে বালক ও বালিকার ১৬টি এবং কলেজ পর্যায়ে বালক ও বালিকার ১৬টি দল থাকবে। ঢাকা, খুলনা, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ শিক্ষা অঞ্চল থেকে একটি করে এবং কুমিল্লা ও সিলেট শিক্ষা অঞ্চল থেকে যৌথভাবে একটি দল জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
প্রতিযোগিতা নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচ অমীমাংসিত থাকলে সরাসরি টাইব্রেকারের মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ করা হবে।
প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নীতিমালায় কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান অবৈধ বা বহিরাগত খেলোয়াড় খেলালে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী, শারীরিক শিক্ষার শিক্ষক এবং প্রতিষ্ঠানপ্রধানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাতানো খেলায় জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট দলকে দুই বছরের জন্য প্রতিযোগিতা থেকে বহিষ্কার করা যাবে। এছাড়া রেফারি বা সহকারী রেফারিকে লাঞ্ছিত করলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়কে আজীবনের জন্য প্রতিযোগিতা থেকে নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন ও রানার-আপ দলকে ট্রফি, মেডেল, সনদ ও নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি সেরা খেলোয়াড়, সেরা গোলরক্ষক এবং সর্বোচ্চ গোলদাতাকেও পৃথকভাবে সম্মাননা দেওয়া হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রতিযোগিতার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া চর্চায় উৎসাহিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ক্রীড়া সংস্কৃতি জোরদার করার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করা হবে।