সাদিয়া আক্তার সুচি প্রকাশিত: বুধবার, ৮ জুলাই, ২০২৬
গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপটি দেখতে এমন
পড়াশোনা কিংবা চাকরির প্রয়োজনে নতুন কোনো শহরে গিয়ে আবাসন খুঁজতে মানুষের বিড়ম্বনার শেষ থাকে না। অচেনা জায়গায় উপযুক্ত স্থানে বাসাবাড়ি বা মেস খুঁজতে গিয়ে সময় যেমন ব্যয় হয় কিন্তু মেলেনা পছন্দের বাসা। সেই ভোগান্তি কমাতে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু পলাশ উদ্ভাবন করেছেন প্রযুক্তির সমাধান।তাঁর উদ্ভাবিত ‘ঘরবাড়ি’মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সহজেই খুঁজে পাওয়া যাবে ভাড়ার বাসা বা মেসের খালি সিট।
পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী
পলাশ জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Artificial Intelligence), ইউটিউব এবং গুগলের বিভিন্ন
শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নিজ প্রচেষ্টায় অ্যাপটি তৈরি করেছেন। এটি নির্মাণে
তার প্রায় এক থেকে দেড় মাস সময় লেগেছে। বর্তমানে গুগল প্লে স্টোরে অ্যাপটি উন্মুক্ত
করা হয়েছে। প্লে স্টোরে উন্মুক্ত করতে করতে তাকে ২৫ মার্কিন ডলার ব্যয় করতে হয়েছে।
এই অর্থের ব্যবস্থা করাই ছিল তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপটি
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
বর্তমানে অ্যাপটির মাধ্যমে মেস
বা বাসার খালি সিটের তথ্য জানা যায়। পাশাপাশি মেস ও বাড়ির মালিকেরা তাদের খালি সিট
বা ভাড়ার বাসার বিজ্ঞাপনও দিতে পারেন। ভবিষ্যতে বাসা ভাড়ার ক্ষেত্রে মানুষের বাস্তব
সমস্যার সমাধানে আরও কার্যকর বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান এই
তরুণ উদ্ভাবক।
পরিসংখ্যান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান
মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, “আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজই হচ্ছে জ্ঞান
সৃষ্টি করা এবং প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা। সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের শিক্ষার্থী আবু পলাশ
এই সামাজিক অ্যাপটি তৈরি করেছে। এতে আমরা পরিসংখ্যান বিভাগ অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।”
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে
শিক্ষকদের গবেষণার জন্য কিছু প্রণোদনা থাকলেও তা খুবই সীমিত, আর শিক্ষার্থীদের গবেষণা
ও উদ্ভাবনের জন্য কার্যত কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নেই। শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী কাজের
জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হলে এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ আরও
বাড়বে এবং দেশ উপকৃত হবে।
নিজের স্বপ্নের কথা জানিয়ে আবু পলাশ বলেন, "দিন দিন বিশ্ব যেভাবে সময়কে মূল্য দিচ্ছে, সেভাবেই আমাদেরও কাজ করা উচিত। মানুষ যেন ছোট ছোট কাজে অপ্রয়োজনীয় সময় নষ্ট না করে, বরং স্মার্ট উপায়ে সহজে সমস্যার সমাধান পায়—সেই লক্ষ্য নিয়েই আমি কাজ করছি।"