প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬
দেশের অধিকাংশ টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে বিভ্রান্ত না হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। সংস্থাটি বলেছে, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা টুথপেস্টকে অনিরাপদ বা নিম্নমানের বলে ঘোষণা করাও সঠিক হবে না।
মঙ্গলবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
বিএসটিআই জানায়, তারা নিজ উদ্যোগে বাজার ও কারখানা থেকে টুথপেস্টের নমুনা সংগ্রহ করে
দেশি বা বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনঃপরীক্ষার উদ্যোগ নিয়েছে। পরীক্ষায় যদি প্রমাণিত
হয় কোনো পণ্য বাংলাদেশ মান (বিএসটিআই স্ট্যান্ডার্ড) পূরণ করেনি বা অনুমোদনহীন উপাদান
ব্যবহার করেছে, তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান
এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) পরিচালিত গবেষণায়
টুথপেস্টের ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬ টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্কের
সৃষ্টি হয়েছে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে
বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানায় বিএসটিআই।
মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটার
বা তার চেয়ে ছোট আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা, যা খালি চোখে সাধারণত দেখা যায় না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি উদীয়মান পরিবেশগত
ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয়। মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে এখনো গবেষণা
চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে প্রথম মাইক্রোবিড-ফ্রি ওয়াটার অ্যাক্ট ২০১৫-তে টুথপেস্টসহ
ধৌতযোগ্য কসমেটিকস পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ইউরোপীয়
আইন মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে উৎপাদনকারীদের ২০২৭ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সময়
দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোজিত প্লাস্টিকের
মাইক্রোবিড ব্যবহার নিষিদ্ধ। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশের স্ট্যান্ডার্ডে
বা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মান সংস্থা প্রণীত মানে টুথপেস্ট পণ্যের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিকের
কোনো মাত্রা বা ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয় উল্লেখ নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টুথপেস্টে
অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা বা একক
পরীক্ষার পদ্ধতি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।
বিএসটিআই বলেছে, টুথপেস্ট পণ্যের
জন্য বাংলাদেশ নির্ধারিত মান (স্ট্যান্ডার্ড) রয়েছে। সেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার
সংক্রান্ত সরাসরি কোনো বিধিনিষেধ না থাকলেও উক্ত স্ট্যান্ডার্ডে টুথপেস্ট উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য
৮১টি উপাদানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক উল্লেখ নেই। বিএসটিআই থেকে
সনদ দেওয়ার আগে টুথপেস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাচাই করা
হয়। ফলে টুথপেস্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ
নেই।