প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬
কানাডায় উচ্চশিক্ষায় আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্টাডি পারমিট ও পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (পিজিডব্লিউপি)–সংক্রান্ত নির্দেশনা আরও বিস্তারিত ও কঠোরভাবে ব্যাখ্যা করেছে দেশটির অভিবাসন, শরণার্থী ও নাগরিকত্ব বিভাগ (আইআরসিসি)। সংস্থাটি বলছে, এগুলো নতুন কোনো নীতি নয়; বরং বিদ্যমান নিয়মের স্পষ্ট ব্যাখ্যা। তবে শিক্ষা ও অভিবাসন–সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি এবং নিয়ম বাস্তবায়নের মাত্রা আরও বাড়বে। প্রতিবছর হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী কানাডায় উচ্চশিক্ষার জন্য যান। ফলে নতুন নির্দেশনাগুলো তাদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রথমবার কোনো শিক্ষার্থীকে কমপ্লিশন লেটার, ট্রান্সক্রিপ্ট, ডিগ্রি বা ডিপ্লোমা প্রদান করলেই তার পড়াশোনা আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে বলে গণ্য হবে। অর্থাৎ ওই তারিখ থেকেই স্টাডি পারমিটের পরবর্তী সময়সীমা নির্ধারণ করা হবে। ফলে কোর্স শেষ হওয়ার পর স্টাডি পারমিট ব্যবহার করে অতিরিক্ত সময় অবস্থানের সুযোগ আগের তুলনায় আরও সীমিত হবে। একই সঙ্গে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিটের আবেদনও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
আইআরসিসি আরও জানিয়েছে, যেসব শিক্ষার্থীর স্টাডি পারমিটে নির্দিষ্ট কোনো ডেজিগনেটেড লার্নিং ইনস্টিটিউশনের (ডিএলআই) নাম উল্লেখ রয়েছে, তারা অন্য প্রতিষ্ঠানে যেতে চাইলে আগে নতুন স্টাডি পারমিট নিতে হবে। নতুন পারমিট ছাড়া অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা শুরু করলে তা অনুমতিবিহীন অধ্যয়ন হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে একই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে একই শিক্ষাস্তরের অন্য কোনো প্রোগ্রামে পরিবর্তন করলে সাধারণত নতুন পারমিটের প্রয়োজন হবে না, যদি পারমিটে অন্য কোনো বিশেষ শর্ত না থাকে।
একাডেমিক অগ্রগতির ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষার্থী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোর্স শেষ করতে পারছেন কি না, নিয়মিত ক্লাস ও শিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন কি না এবং বারবার একাডেমিক বিরতি নিচ্ছেন কি না—এসব বিষয় এখন আরও গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন করবেন অভিবাসন কর্মকর্তারা। যদিও সর্বোচ্চ ১৫০ দিনের অনুমোদিত বিরতির নিয়ম বহাল রয়েছে, তবুও একাধিকবার বিরতির ঘটনা অতিরিক্তভাবে যাচাই করা হবে।
এ ছাড়া ২০২৩ সালে চালু হওয়া একটি অস্থায়ী নীতির আওতায় কিছু ওয়ার্ক পারমিটধারী স্টাডি পারমিট ছাড়াই পড়াশোনার যে সুযোগ পেতেন, তা ২০২৬ সালের ২৭ জুন শেষ হয়েছে। ফলে এখন থেকে ওই সুবিধা আর কার্যকর নয় এবং সংশ্লিষ্টদের নিয়মিত স্টাডি পারমিট নিয়েই পড়াশোনা করতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এসব পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য অভিবাসন ব্যবস্থাকে আরও সুশৃঙ্খল ও জবাবদিহিমূলক করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কানাডায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ার পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ভুয়া ভর্তি, প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের অপব্যবহার এবং অভিবাসন নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগও সামনে আসে। সে কারণেই বিদ্যমান নিয়মগুলো আরও কঠোরভাবে প্রয়োগের পথে হাঁটছে কানাডা সরকার।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত করলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন, একাডেমিক বিরতি, স্টাডি পারমিটের মেয়াদ, কোর্স সম্পন্নের সময় এবং পিজিডব্লিউপির আবেদন—প্রতিটি ধাপেই অভিবাসন বিধি মেনে চলতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনিক ছোট একটি ভুলও ভবিষ্যতে স্টাডি পারমিট নবায়ন, ওয়ার্ক পারমিট বা স্থায়ী বসবাসের আবেদনকে জটিল করে তুলতে পারে। তাই কানাডায় পড়তে আগ্রহী এবং বর্তমানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা নিয়মিত অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়াই হবে সবচেয়ে নিরাপদ পথ।