প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
চলতি বছর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির পর সারা দেশে ১৪ লাখের বেশি আসন ফাঁকা থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে মোট আসন প্রায় ২৬ লাখ। বিপরীতে চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন শিক্ষার্থী। ফলে মোট আসনের অর্ধেকেরও বেশি খালি থাকবে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, নয়টি সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে প্রায় ২৬ লাখ। এর মধ্যে মাদ্রাসা বোর্ডে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৫৯৬টি এবং নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ২২ লাখ ৬৬ হাজার ৭৯২টি আসন রয়েছে।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন।
তবে মোট আসন বেশি থাকলেও ভালো কলেজগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কমবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা। কারণ, মানসম্পন্ন কলেজগুলোর আসনসংখ্যার তুলনায় এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি।
দেশে ভালো ও মানসম্পন্ন কলেজ হিসেবে বিবেচিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দুই শতাধিক। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট আসন প্রায় এক লাখ। বিশেষ করে রাজধানীর ২৫ থেকে ৩০টি নামী কলেজে ভর্তির আগ্রহ বেশি থাকায় সেখানে প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, এবার একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ২৬ লাখ আসন থাকলেও পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী। ফলে সাড়ে ১৪ লাখের বেশি আসন ফাঁকা থাকবে। তবে ভালো কলেজগুলোতে ভর্তির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থাকবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মুনসী হুমায়ুন কবির জানান, একাদশ শ্রেণির ফাঁকা আসনের তালিকা চূড়ান্ত করে শিগগিরই ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। মোট আসন প্রায় ২৬ লাখ হলেও সংখ্যাটি কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
চলতি শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। ভর্তি-ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের অনলাইনে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রমে দিতে হবে।
শিক্ষার্থীর ফল, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে কোটা ও পছন্দক্রম বিবেচনায় একটি প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হবে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করবে। একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়ে আলোচনা থাকলেও এবার ফলের ভিত্তিতেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
তবে নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজসহ চার্চ পরিচালিত কয়েকটি কলেজ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পৃথক ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করবে।