প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ জুলাই, ২০২৬
এআই দিয়ে কল্পনা করা ছবি।
ভারতের ভঙ্গুর
শিক্ষাব্যবস্থা, তীব্র
বেকারত্ব এবং
সাম্প্রতিক নিট
(NEET-UG) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের
ঘটনায়
সৃষ্ট
ক্ষোভের মুখে
দিল্লির রাজপথে
উত্তাপ
ছড়াচ্ছে নতুন
রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ককরোচ
জনতা
পার্টি’
(সিজেপি)।
সোমবার দলটির
ঘোষিত
‘সংসদ
ভবন
অভিযান’
কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে
রাজধানী দিল্লির যন্তরমন্তর এলাকা
কার্যত
রণক্ষেত্রে পরিণত
হয়।
পুলিশের সঙ্গে
বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ
ও
লাঠিচার্জের ঘটনায়
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে
ওঠে।
চলতি বছরের
১৬
মে
আম
আদমী
পার্টির সাবেক
সোশ্যাল মিডিয়া কৌশলবিদ অভিজিৎ
দীপকের
হাত
ধরে
যাত্রা
শুরু
করে
এই
ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলনটি। মূলত
ভারতের
প্রধান
বিচারপতি সূর্য
কান্তের একটি
বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে এই
ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি
হয়।
বিচারপতি আন্দোলনরত বেকার
যুবকদের ‘তেলাপোকা’ (Cockroach) এবং ‘পরজীবী’
বলে
আখ্যায়িত করেছিলেন বলে
অভিযোগ
রয়েছে।
সেই
অপমানকে শক্তিতে রূপান্তর করতে
‘অলস
ও
বেকারদের কণ্ঠস্বর’ স্লোগান নিয়ে
সিজেপি
গড়ে
তোলেন
দীপক।
সোমবার সংসদ
ভবন
অভিযান
কর্মসূচির আগে
পুলিশ
পুরো
দিল্লি
জুড়ে
১৪৪
ধারা
(বর্তমানে বিএসএনএস-এর
১৬৩
ধারা)
জারি
করে
এবং
কঠোর
নিরাপত্তার চাদরে
ঢেকে
ফেলে
এলাকা।
তবে
নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেই
হাজার
হাজার
শিক্ষার্থী ও
তরুণ
প্রজন্ম যন্তরমন্তরে সমবেত
হয়।
এ
সময়
পুলিশ
বাধা
দিলে
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও
লাঠিচার্জের ঘটনা
ঘটে।
বিক্ষোভের এক
পর্যায়ে প্রবীণ
সমাজকর্মী সোনম
ওয়াংচুককে পুলিশ
জোরপূর্বক হাসপাতাল নিয়ে
গেলে
সিজেপি
প্রধান
অভিজিৎ
দীপক
পুলিশি
হামলার
অভিযোগ
তোলেন।
দীপক
দাবি
করেন,
তাকেও
পুলিশি
হেফাজতে নেওয়া
হয়েছিল। তিনি
অভিযোগ
করেন,
“শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনের
জন্য
সরকার
পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা
করছে।”
যদিও
দিল্লি
পুলিশ
সহিংসতার অভিযোগ
অস্বীকার করে
জানিয়েছে, উচ্চ
আদালতের নির্দেশ ও
শারীরিক অবস্থার অবনতির
কারণে
সোনম
ওয়াংচুককে চিকিৎসার জন্য
হাসপাতালে নেওয়া
হয়েছে।
এদিকে, পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার
সিজেপি’র প্রতিনিধিদের আলোচনার জন্য
ডাকে।
দলের
মুখপাত্র সৌরভ
দাস
জানান,
সিজেপি
প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে
পি
নাড্ডার সঙ্গে
দেখা
করে
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, বিচার
বিভাগীয় তদন্ত
এবং
নিট
পরীক্ষার্থীদের জন্য
ক্ষতিপূরণের দাবি
জানিয়েছেন। নাড্ডা
দাবিগুলো যথাযথ
স্তরে
আলোচনার আশ্বাস
দিলেও
এ
নিয়ে
এখনো
কোনো
সুরাহা
হয়নি।
সোমবার রাতে
বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ভেঙে
দেওয়া
যন্তরমন্তরের মঞ্চ
পুনরায়
দখল
করে
অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে
যাওয়ার
ঘোষণা
দিয়েছে। নিট
কেলেঙ্কারির বিচার
ও
সুনির্দিষ্ট সংস্কারের দাবি
আদায়
না
হওয়া
পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে
যাওয়ার
কথা
জানিয়েছেন দলটির
নেতারা।
বিশ্লেষকদের মতে,
সিজেপি’র এই দ্রুত
উত্থান
ভারতের
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণ
প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান হতাশা
ও
ক্ষোভের এক
অনন্য
প্রতিফলন। সোশ্যাল মিডিয়ায় কোটি
মানুষের সমর্থন
পাওয়া
এই
‘তেলাপোকা’ আন্দোলন শেষ
পর্যন্ত ভারতের
মূলধারার রাজনীতিতে কতটা
প্রভাব
ফেলতে
পারে,
সেটিই
এখন
দেখার
বিষয়।
মে মাসে শুরু: সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য্য কান্ত বেকার তরুণদের ককরোচ ও পরজীবীর সঙ্গে তুলনা করেন। পরদিনই বস্টন প্রবাসী অভিজিৎ দিপ সামাজিক মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি নামের একটি দল গঠনের ঘোষণা দেন। তরুণদেরকে যেই শব্দ ব্যবহার করে অপমান করা হয়েছিল সেই শব্দকেই আন্দোলনকারীরা নিজেদের পরিচয় বানিয়ে নেয়। মাত্র কয়েকদিনে ১১ মিলিয়ন ফলোয়ার এসে যায় সিজেপির ইনস্টাগ্রাম পেইজে। ওই সংখ্যাটি তখনকার সময়ে বিজেপি ও কংগ্রেসের অফিসিয়াল একাউন্টের চেয়ে বেশি ছিল। সরকারের বিরুদ্ধে ককরোচদের ওয়েবসাইট বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠে। প্রতিষ্ঠাতা দিপকের ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট হ্যাক হওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়। তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র ও সাবেক সংসদ সদস্য কীর্ত আজাদের মতো সুপরিচিত রাজনৈতিক নেতারা ককরোচকে সমর্থন জানাতে শুরু করেন।
জুন মাসে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রথম প্রতিবাদ সভার আহ্বান করে ককরোচ। সেখানে যোগ দেয় বিভিন্ন অরাজনৈতিক শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো। নিট পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস আর সিবিএসআই মূল্যায়নে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে জমে উঠে আন্দোলন। মন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে সাত দিনের আল্টিমেটাম দেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হতে শুরু করে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে পাঁচ দফা দাবিসহ একটি পরীক্ষা ইশতিহার ঘোষণা করে ককরোচ। সেখানে দাবিগুলোর অন্যতম ছিল প্রশ্নফাঁসে ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ ও পরীক্ষার ফলাফল পিছিয়ে দেওয়া। এসময় জয়পুর, লখনৌ, অমৃতসর, বেঙ্গালুরু, হায়দারাবাদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। জলবায়ু ও শিক্ষাকর্মী সোনম ওয়াংচুক, যন্তর মন্তরের কাছে অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরুর ঘোষণা দেন। ২০ জুলাই সংসদ অধিবেশনের প্রথম
দিনে সংসদ অভিমুখে মিছিল শুরু করে ককরোচ।