প্রতিবেদক, ক্যাম্পাস মিরর প্রকাশিত: বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
ছবি: কাল্পনিক
দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হয়ে বড় বড় যুদ্ধে জড়ানোর পাশাপাশি ভার্চুয়াল জগত থেকে এক বছরে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবসা করে এক বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
২০২৬ সালের ৩০ জুন যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অফ গভর্নমেন্ট এথিক্স’ (Office of Government Ethics)-এর কাছে জমা দেওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্যগুলো বেরিয়ে এসেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম (যেমন—বিবিসি, এপি, রয়টার্স, ফিন্যান্সিয়াল টাইমস) এই নথির ওপর ভিত্তি করেই সংবাদ প্রচার করেছে।
৯২৭ পৃষ্ঠার ওই আর্থিক প্রতিবেদনে ট্রাম্প জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণের তিন দিন আগে চালু করা তার ‘ট্রাম্প মিম কয়েন’ থেকে রয়্যালটি বাবদ তিনি ৬৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় করেছেন। যদিও কয়েনটির মূল্য চালুর পর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
এ ছাড়া, ট্রাম্প তার দুই ছেলে এবং তার বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সন্তানদের প্রতিষ্ঠিত ক্রিপ্টোকারেন্সি কোম্পানি ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়াল থেকে ৫০ কোটি ডলারের বেশি আয় করেছেন।
ক্রিপ্টোকারেন্সি ছাড়াও রিয়েল এস্টেট, ট্রাম্প-থিমযুক্ত বাইবেল, ঘড়ি এবং অন্যান্য পণ্য থেকেও তিনি কয়েক মিলিয়ন ডলার আয়ের তথ্য দিয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র বিষয়টিকে অস্বীকার করলেও, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সমালোচকরা এই বিশাল আয়ের উৎস ও তার প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মধ্যে সম্ভাব্য ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিবেদনগুলো বলছে যে, ট্রাম্পের নেওয়া বিভিন্ন প্রশাসনিক পদক্ষেপ (যা ক্রিপ্টো শিল্পের জন্য অনুকূল ছিল) পরোক্ষভাবে তার নিজের এই ব্যবসাগুলোর প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করেছে।
ট্রাম্পের আর্থিক প্রতিবেদন বলছে, ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইন্যান্সিয়ালের সঙ্গে বিভিন্ন লেনদেন থেকেই আয়ের বড় অংশ এসেছে তার। প্রতিষ্ঠানটির নিট আয়ের ৭৫ শতাংশ ট্রাম্প ও তার পরিবারের সদস্যরা পান।
তবে গত বছরের আর্থিক বিবরণীতে ট্রাম্পের আয় আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আগের বছর তিনি ৬০ কোটি ডলারের বেশি আয়ের তথ্য দিয়েছিলেন।
প্রথম মেয়াদে ২০ জানুয়ারি ২০১৭ থেকে ২০ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৪৫তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় ছিলেন ট্রাম্প। পরের নির্বাচনে ক্ষমতা বাইডেনের কাছে চলে গেলেও নানা চড়াই উৎরাই শেষে দ্বিতীয় মেয়াদে ২০ জানুয়ারি ২০২৫ সালে আবার ক্ষমতায় আসেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসাবে তার মেয়াদ শেষ হবে ২০ জানুয়ারি ২০২৯ সালে।